Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

আইপিএলের মাঝপথে বিসিসিআই-এর বড় ঘোষণা: মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর হলো নতুন ও কঠোর নিয়ম

 ‌

New-Rules-in-IPL

সমকালীন প্রতিবেদন : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল ২০২৬-এর উত্তেজনার মাঝেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য বড় নির্দেশিকা জারি করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। টুর্নামেন্টের মাঝপথে ‘প্লেয়িং কন্ডিশন’ বা খেলার নিয়মে আমূল পরিবর্তন এনে মাঠের শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতাকে আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন বাউন্ডারি লাইনের ভেতরে বা আশেপাশে ক্রিকেটারদের উপস্থিতি সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।

বিসিসিআই-এর নতুন নির্দেশিকায় পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, খেলা চলাকালীন কোনোভাবেই ১৬ জনের বেশি ক্রিকেটার মাঠের সক্রিয় পরিধির মধ্যে থাকতে পারবেন না। এই ১৬ জন হলেন, প্রথম একাদশের ১১ জন খেলোয়াড় এবং টসের সময় তালিকায় জমা দেওয়া ৫ জন ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ বা বিকল্প সদস্য। এই নির্দিষ্ট ১৬ জন সদস্য ছাড়া দলের বাকি খেলোয়াড়দের বাধ্যতামূলকভাবে ডাগ-আউটে বসে থাকতে হবে।

সাধারণত দেখা যায়, আইপিএলের ম্যাচ চলাকালীন জল পানের বিরতিতে বা ব্যাটারের কাছে কোনো বিশেষ বার্তা পৌঁছাতে দলের অতিরিক্ত ক্রিকেটাররা মাঠে ঢুকে পড়েন। অনেক সময় ডাগ-আউটের বাইরে থাকা প্রায় সব সদস্যই বাউন্ডারি লাইনের ধারে ঘোরাফেরা করেন। নতুন নিয়মে এই অভ্যাসে ইতি টানা হয়েছে। 

এখন থেকে জল, অতিরিক্ত ব্যাট বা গ্লাভস নিয়ে মাঠে ঢুকতে পারবেন শুধুমাত্র সেই ৫ জন বিকল্প খেলোয়াড়, যাদের নাম ওই ১৬ জনের তালিকায় রয়েছে। ১৬ জনের তালিকার বাইরে থাকা কোনো ক্রিকেটার মাঠের ধারে বা এমনকি বিজ্ঞাপন বোর্ডের আশেপাশেও ঘোরাফেরা করতে পারবেন না।

বিসিসিআই প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এই নতুন নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছে এবং সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার বা দলের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খেলার গতির যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং অকারণে সময় নষ্ট না হয়, তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, যে সকল বিকল্প খেলোয়াড়রা মাঠের ধারে ফিল্ডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনে উপস্থিত থাকবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ড্রেস কোড বা ট্রেনিং জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যাতে খেলোয়াড় ও অতিরিক্ত কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সময়ের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের মাঠে আসা-যাওয়ার ফলে অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট হয়, যা মন্থর ওভার রেটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া মাঠের চারপাশে ভিড় কমিয়ে খেলার পরিবেশকে আরও পেশাদার ও স্বচ্ছ রাখতেই বিসিসিআই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আইপিএলের দলগুলোতে সাধারণত ২৫ জন করে ক্রিকেটার থাকলেও, এখন থেকে ম্যাচ ডে-তে মাঠের লজিস্টিকসে ১৬ জনকেই প্রাধান্য দিতে হবে।

বিসিসিআই-এর এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কিছুটা অবাক হলেও, ক্রিকেটের মানোন্নয়নে এই নিয়মের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। চলতি মরশুমের বাকি সব ম্যাচেই এই নিয়ম কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।‌‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন