Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

আইনি জট কাটিয়ে মুক্ত হতে চলেছেন সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন

 

Sarada-Chief-Sudipta-Sen

সমকালীন প্রতিবেদন : অবশেষে দীর্ঘ ১২ বছর ১১ মাস পর জেলের অন্ধকার কুঠুরি থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ বারাসত থানার শেষ দুটি মামলাতেও তার জামিন মঞ্জুর করায়, দীর্ঘ ১৩ বছরের বন্দিজীবনের অবসান হতে চলেছে। সব ঠিক থাকলে সম্ভবত আগামীকাল, বৃহস্পতিবারই প্রেসিডেন্সি জেল থেকে মুক্তি পাবেন তিনি।

২০১৩ সালের মার্চ মাসে কাশ্মীর থেকে সহযোগী দেবযানী মুখোপাধ্যায়সহ গ্রেফতার হন সুদীপ্ত সেন। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে পাহাড়প্রমাণ মামলার পাহাড় জমে ওঠে। তার আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারদা সংক্রান্ত মোট ৩৮৯টি মামলার মধ্যে সিবিআই-এর হাতে থাকা ৭৬টি মামলায় তিনি আগেই জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলার গেরোয় তার মুক্তি আটকে ছিল। একের পর এক আইনি লড়াই শেষে বারাসত থানার শেষ দুটি মামলার জট বুধবার কেটে যাওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

এদিন শুনানির সময় সিবিআই এবং রাজ্য পুলিশ– উভয় পক্ষকেই তীব্র ভর্ৎসনা করে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৪ সালে চার্জশিট জমা দেওয়ার পরও কেন ১০ বছরে ট্রায়াল বা বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা গেল না, সেই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।

আদালত এদিন জানায়, বিচার শেষ না করে কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলে আটকে রাখা যায় না। সিবিআই-এর আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত প্রশ্ন করে, বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার কোনো দায়বদ্ধতা তাদের আছে কি না। বিচারপতির মতে, সুদীপ্ত সেন জামিন পেলে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের সুবিধাই হতে পারে।

মুক্তি পেলেও সুদীপ্ত সেনকে আদালতের বেশ কিছু কঠোর শর্ত মেনে চলতে হবে। এই দীর্ঘ সময়ে সারদা কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে বহুবার ঝড় উঠেছে। কয়েক হাজার আমানতকারীর সর্বস্বান্ত হওয়ার যন্ত্রণা আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সাক্ষী থেকেছে বাংলা। এখন দেখার বিষয়, ১৩ বছর পর মূল অভিযুক্ত কারামুক্ত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া নতুন কোনো গতি পায় কি না।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন