সমকালীন প্রতিবেদন : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও সংশোধন সংক্রান্ত ‘এসআইআর’ মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেল নির্বাচন কমিশন। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে জানানো হয়, কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া রিপোর্টে শীর্ষ আদালত সন্তুষ্ট। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৭ লক্ষ বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে বাকি সমস্ত আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে হাইকোর্ট।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, কেবল তাঁরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল। সেই কথা মাথায় রেখে কমিশন আর্জি জানিয়েছিল যাতে ওই দিন রাত ১২টার মধ্যেই সমস্ত বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি করা হয়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট আগামী ৬ এপ্রিল বিকেল ৪টেয় পুনরায় এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের অভিযোগ শোনার জন্য গঠিত ট্রাইবুনালে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়োগ করা হয়েছে। বুধবার থেকেই তাঁদের প্রশিক্ষণ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত, যাতে বৃহস্পতিবার থেকে ট্রাইবুনাল পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শুরু করতে পারে। যদিও এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, কমিশনের একতরফা প্রশিক্ষণ নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে আদালত জানায়, প্রাক্তন বিচারপতিরা স্বাধীনভাবেই কাজ করবেন এবং তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয়ের কোনও কারণ নেই।
শুনানি চলাকালীন বিপুল সংখ্যক 'ফর্ম-৬' জমা পড়া নিয়ে অভিযোগ ওঠে। এমনকি এক ব্যক্তির নামেই এক দিনে হাজার হাজার আবেদনের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয় এবং নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তবেই তা বিচার্য। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও আশ্বস্ত করেন যে, কেউ এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার অর্থ এই নয় যে তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে চলে গেল।
ট্রাইবুনালের জন্য সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, তা হল– অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমের আবেদন সম্পর্কে প্রাক্তন বিচারপতিদের স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। পূর্বে পেশ করা হয়নি এমন কোনও নতুন নথি গ্রহণ করা যাবে না। যে কোনও নথি গ্রহণের আগে তার সত্যতা কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে।
প্রথম দফার নির্বাচনে বেশ কিছু প্রার্থীর নামও বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে ট্রাইবুনাল অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেই নামগুলোর নিষ্পত্তি করবে। আগামী সোমবারের শুনানিতেই পরিষ্কার হবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রাইবুনাল কতটা সফলভাবে এই বিপুল সংখ্যক আবেদনের সুরাহা করতে পারল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন