Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতে ব্রাত্য ইডেন: ঐতিহ্যের প্রশ্নে সরব ক্রিকেটমহল

 ‌

Border-Gavaskar-Trophy

সমকালীন প্রতিবেদন : ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া– ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথ। অথচ ২০২৬-২৭ মরশুমের সেই বহুল প্রতীক্ষিত বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির সূচিতে নাম নেই ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সের। বিসিসিআই প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, এই সিরিজের ম্যাচগুলি আয়োজিত হবে নাগপুর, চেন্নাই, গুয়াহাটি, রাঁচি এবং আহমেদাবাদে। কলকাতার মতো ঐতিহাসিক ভেন্যু এভাবে ‘উপেক্ষিত’ হওয়ায় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। এই বিতর্কিত আবহে এবার মুখ খুললেন সিএবি সভাপতি তথা প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

সোমবার কলকাতায় ‘মিরাকল অ্যাট ইডেন’ নামক একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের সেই রূপকথার জয়কে কেন্দ্র করেই এই বই। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে প্রশ্ন ওঠে, যে মাঠে অজিদের বিরুদ্ধে ভারত ইতিহাসের সেরা টেস্ট জিতেছিল, সেই মাঠ কেন এবার ব্রাত্য?

সৌরভ অবশ্য অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বোর্ড প্রশাসনের রোটেশন পলিসিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, "সিএবি প্রেসিডেন্ট এবং একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার হিসেবে আমি সবসময়ই চাই ইডেনে বড় মাপের টেস্ট ম্যাচ হোক। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, গত মরশুমেই ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট হয়েছে। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং আইপিএলের ম্যাচও আমরা পাচ্ছি। বিসিসিআই-এর রোটেশন পলিসি মেনে অন্য কেন্দ্রগুলোতেও খেলা দেওয়া প্রয়োজন।"

সৌরভ আরও যোগ করেন যে, গুয়াহাটি বা রাঁচির মতো কেন্দ্রগুলোতে টেস্ট ম্যাচ হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। দেশের সব প্রান্তে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করেছেন তিনি।

সৌরভ রোটেশন পলিসির কথা বললেও সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগী এবং বিশেষজ্ঞদের একাংশ তা মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, ইডেন গার্ডেন্সকে সুকৌশলে কোণঠাসা করা হচ্ছে। তাঁদের যুক্তি, ক্রিকেট মহলের অনুচ্চস্বরে অভিযোগ, আইপিএল ফাইনাল, বিশ্বকাপ ফাইনাল কিংবা ভারত-পাক ম্যাচের মতো মেগা ইভেন্টগুলো এখন প্রায় স্থায়ীভাবে আহমেদাবাদে চলে যাচ্ছে। এবারের বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির ম্যাচও সেখানে রাখা হয়েছে।

গুয়াহাটি বা রাঁচিতে টেস্ট আয়োজনকে সাধুবাদ জানালেও, অস্ট্রেলিয়ার মতো হেভিওয়েট দলের বিরুদ্ধে ইডেনের যে উন্মাদনা ও গ্যালারি ভর্তি দর্শক সমাগম হয়, তা কি অন্য ছোট শহরগুলোতে সম্ভব? ঐতিহ্যের চেয়ে রাজনীতিই এখানে প্রাধান্য পেয়েছে বলে অনেকের দাবি।

সৌরভ নমনীয় সুর বজায় রাখলেও, একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাক্তন স্পিনার বেঙ্কটপতি রাজু বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। রাজুর মতে, টেস্ট ক্রিকেটের আভিজাত্য বজায় রাখতে নির্দিষ্ট কয়েকটি পুরনো ভেন্যুকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। 

বেঙ্কটপতি রাজু বলেন, "আমাদের সময়ে টেস্টের জন্য নির্দিষ্ট পাঁচটি ভেন্যু ছিল– কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই ও কানপুর। আমার মনে হয় সেই ট্র্যাডিশনে ফিরে যাওয়া উচিত। ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো ছোট শহরগুলোতে হোক, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের সেই বিশেষ অনুভূতি কেবল এই পুরনো স্টেডিয়ামগুলোতেই পাওয়া যায়।"

ইডেন গার্ডেন্স আগামী মরশুমে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একটি মাত্র একদিনের ম্যাচ পেয়েছে। তবে ২০২৭-এর শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ভারত সফরের মতো বড় ইভেন্টে ইডেনের নাম না থাকাটা কলকাতার ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে বড় ধাক্কা। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিকাঠামোর উন্নতির কথা বললেও, ‘নন্দনকানন’ কেন বঞ্চিত রইল, সেই প্রশ্ন আপাতত ধামাচাপা পড়ছে না। গঙ্গার ধারের এই ঐতিহাসিক গ্যালারিতে অজিদের বিরুদ্ধে লড়াই দেখার আশা আপাতত অধরাই রয়ে গেল ভক্তদের কাছে।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন