সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতেই ভোটারদের পরিসংখ্যান নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৩শে এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১ জন– যা কার্যত বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা যেখানে ২ কোটি ৭২ লক্ষ এবং বেলজিয়ামের ১ কোটি ১৮ লক্ষ, সেখানে বাংলার প্রথম দফার ভোটাররাই সেই সংখ্যাকে অনায়াসে অতিক্রম করে গিয়েছে।
আগামী ২৩শে এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই দফার ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৯৬ জন এবং মহিলা ভোটার ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৭ হাজার ২১০ জন। এ ছাড়াও ৪৬৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সামিল হবেন। প্রথম দফার এই বিপুল কর্মযজ্ঞের পর বাকি ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯শে এপ্রিল। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষিত হবে ৪ঠা মে।
কমিশনের জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফায় সবথেকে বড় ভূমিকা পালন করবে মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় ভোটারের সংখ্যা সর্বাধিক, প্রায় ৫০ লক্ষ ২৬ হাজার। এরপরই তালিকায় রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর (৪১ লক্ষ ৬০ হাজার) এবং পশ্চিম মেদিনীপুর (৩৭ লক্ষ ৭০ হাজার)। অন্যদিকে, কালিম্পং জেলায় ভোটারের উপস্থিতি সবথেকে কম– মাত্র ২ লক্ষ ১ হাজার।
উত্তরবঙ্গ: উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে কোচবিহারে ভোটার সংখ্যা সবথেকে বেশি (২২ লক্ষ ৬৩ হাজার)। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে যথাক্রমে ১৭ লক্ষ ১৯ হাজার ও ১১ লক্ষ ৬৪ হাজার ভোটার রয়েছেন। দার্জিলিং জেলায় ভোটারের সংখ্যা ১১ লক্ষ ১০ হাজার।
পশ্চিমাঞ্চল ও অন্যান্য: মালদহ জেলায় ২৭.৯১ লক্ষ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বাঁকুড়ায় ভোটারের সংখ্যা ২৯ লক্ষ ১৯ হাজার এবং পুরুলিয়ায় ২২ লক্ষ ৫২ হাজার। এছাড়াও বীরভূমে ২৬ লক্ষ ৯১ হাজার এবং পশ্চিম বর্ধমানে ১৯ লক্ষ ৬৫ হাজার ভোটার রয়েছেন।
তৃতীয় লিঙ্গ: মুর্শিদাবাদ জেলা এক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে; এখানে সর্বোচ্চ ৭৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এর পরেই রয়েছে মালদহ, যেখানে সংখ্যাটি ৬৭।
নির্বাচন কমিশনের জনৈক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রতিটি বৈধ ভোটার যাতে কোনো বাধা ছাড়াই তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য ভোটার তালিকা নিখুঁতভাবে সংশোধন করা হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশন সমস্ত রকম নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলার এই মেগা নির্বাচনের দিকে এখন নজর রয়েছে গোটা দেশের।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন