Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেই মিলবে না ভোটাধিকার, স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট

সমকালীন প্রতিবেদন : ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের ভাগ্যাকাশে ঘনিয়ে এল অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সাফ জানিয়ে দিলেন, ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানিয়েছেন বলেই কাউকে ভোটদানের বিশেষ সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ রাজ্যের প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বড়সড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সোমবার শীর্ষ আদালতে এসআইআর ও মোথাবাড়ি সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা আদালতের কাম্য নয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আবেদন করলেই ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যদি আমরা এর অনুমতি দিই, তবে যাঁদের নাম বর্তমানে ভোটার তালিকায় বৈধভাবে রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকারও স্থগিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”

রাজ্যে দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন রাত ১২টা পর্যন্ত যাঁদের নাম তালিকায় নথিভুক্ত থাকে, একমাত্র তাঁরাই ভোট দিতে পারেন। সেই হিসেবে প্রথম দফার জন্য ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার জন্য ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা ইতিমধ্যে ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এই আইনি মারপ্যাঁচেই আটকে গিয়েছেন সেই সমস্ত মানুষ, যাঁদের নাম এখনও ‘আন্ডার অ্যাডজুডিশন’ বা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে।

তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আদালতে আবেদন জানান, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগেই যেন এই ১৬ লক্ষ মানুষের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সংখ্যক মানুষ আজ সুপ্রিম কোর্টের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে।” অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সওয়াল করেন যে, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় বিচারাধীন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মনে করিয়ে দেন যে, ৯ এপ্রিলের পর কোনো আপিল নিষ্পত্তি হলেও কারিগরি কারণে তাঁদের নাম তালিকায় ঢোকানো কঠিন। তিনি উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে জানান, আদালতকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় নিতে হবে।

রাজ্যে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তার মধ্যে এই ১৬ লক্ষ ‘ব্রাত্য’ ভোটার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এদিনের পর্যবেক্ষণ রাজ্যের শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা। আগামী সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানি হলেও, ২৩ তারিখের প্রথম দফার ভোটে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ বুথ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আইনি লড়াই আর ঘড়ির কাঁটার অসম দৌড়ে পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এখন বিশ বাঁও জলে। এখন দেখার, পরবর্তী শুনানিতে আদালত কোনো বিকল্প পথের দিশা দেখায় কি না।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন