Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

প্যাঁচপ্যাঁচে গরমের মাঝেই কালবৈশাখীর পূর্বাভাস: দক্ষিণে দুর্যোগের ভ্রুকুটি, উত্তরেও চলবে বৃষ্টি

 

Kalbaishakhi-Forecast

সমকালীন প্রতিবেদন : ক্যালেন্ডারের পাতায় সবে এপ্রিলের শুরু, অথচ আবহাওয়া যেন আগুনের পিণ্ড। গত কয়েকদিন ধরেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। গরম আর ঘাম– এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে আমজনতার অবস্থা যখন 'ত্রাহি ত্রাহি', তখনই কিছুটা আশার আলো শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। গুমোট অস্বস্তির পর অবশেষে রাজ্যে ফিরছে কালবৈশাখী। রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা কয়েকদিন বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।

শনিবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ ঝকঝকে রোদেলা। আজ মহানগরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৪৯ থেকে ৮৬ শতাংশের মধ্যে থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরমে পৌঁছবে। কলকাতা ছাড়াও হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনায় গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা পশ্চিমের জেলাগুলোর। বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানে পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে।

বিকেলের দিকে অবশ্য আবহাওয়ার মেজাজ বদলাতে পারে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার বিকেলেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে স্থানীয়ভাবে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। তবে আসল বৃষ্টি শুরু হবে রবিবার থেকে। রবিবার থেকে বুধবার– রাজ্যের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার ও মঙ্গলবার– এই দুদিন বৃষ্টির তীব্রতা ও ব্যাপকতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় কালবৈশাখীর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দফতর।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বৃষ্টির ফলে আগামী সপ্তাহের শুরুতে কলকাতার তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে, যা হাঁসফাঁস করা গরম থেকে সাময়িক মুক্তি দেবে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির ধারা বজায় থাকবে। 

দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি– এই পাঁচ জেলাতে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝখানে তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও সোমবার থেকে ফের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির প্রকোপ বাড়বে। উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। তবে সমতলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রার খুব একটা বড় রদবদল হবে না।

যদিও বৃষ্টির খবরে স্বস্তি ফিরছে, তবুও কালবৈশাখীর সময় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকা এবং শিলাবৃষ্টির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকদের আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে প্রশাসন। আপাতত চৈত্র শেষের এই কালবৈশাখীই হবে পুড়তে থাকা বাংলার পরম স্বস্তি।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন