Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

এলপিজি-র দিন কি শেষ? রান্নার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে দিশা দেখাচ্ছে পরিবেশবান্ধব 'ডিএমই'

Alternatives-to-Cooking-Gas

সমকালীন প্রতিবেদন : রান্নার গ্যাসের উত্তরোত্তর মূল্যবৃদ্ধি এবং সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই এক স্বস্তির খবর শোনালেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। এলপিজি-র বিকল্প হিসেবে এখন জোরালোভাবে উঠে আসছে 'ডাইমিথাইল ইথার' বা ডিএমই-র নাম। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, এই জ্বালানি কেবল সাশ্রয়ীই নয়, বরং দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়তেও বিশেষ সহায়ক হবে।

২০১৬ সাল থেকে পুণের 'ন্যাশনাল কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি'-এর বিজ্ঞানীরা বিকল্প জ্বালানির সন্ধানে গবেষণা চালাচ্ছিলেন। গবেষক রাজা থিরুমালাইস্বামী ও তাঁর দল দীর্ঘ প্রচেষ্টায় দেখিয়েছেন যে, ডাইমিথাইল ইথার হতে পারে রান্নার গ্যাসের সেরা বিকল্প। বর্তমানে যেখানে বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার ফুরিয়ে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেখানে এই জৈব জ্বালানি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ডিএমই মূলত মিথানল থেকে প্রস্তুত এক ধরনের বর্ণহীন গ্যাস। এর বেশ কিছু বৈপ্লবিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন– এটি পরিবেশবান্ধব। এটি দহনের সময় নাইট্রিক অক্সাইড বা সালফার ডাই অক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি করে না। একে 'ক্লিন বার্নিং ফুয়েল' বলা হয়, কারণ এটি ওজোন স্তরের কোনও ক্ষতি করে না।

পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি সহজ। এলপিজির মতো এই গ্যাসকেও খুব সহজে তরলে রূপান্তর করা যায়। ফলে বর্তমানের সিলিন্ডার বা পাইপলাইন ব্যবহার করেই এটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। শুধু হেঁশেল নয়, ডিএমই ব্যবহার করা যেতে পারে ডিজেলের বিকল্প হিসেবেও। কলকারখানা ও ভারী যন্ত্রপাতির জ্বালানি হিসেবেও এটি অত্যন্ত কার্যকর।

ডিএমই-র সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর উৎপাদন পদ্ধতি। এটি তৈরির জন্য খনিজ সম্পদের ওপর নির্ভর করতে হয় না। কৃষি বর্জ্য, পচা লতাপাতা, গোবর এমনকি প্লাস্টিক বর্জ্য থেকেও এই গ্যাস তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে একদিকে যেমন সস্তায় জ্বালানি মিলবে, অন্যদিকে প্লাস্টিক দূষণ কমানোর ক্ষেত্রেও এটি বড় অস্ত্র হয়ে উঠবে। এমনকি কলকারখানা থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডকে প্রক্রিয়াজাত করেও ডিএমই উৎপাদন করা যেতে পারে।

আপাতত বিজ্ঞানীরা এলপিজির সাথে ২০-২৫ শতাংশ ডিএমই মিশিয়ে ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। বর্তমানে দিনে প্রায় ২৫০০ কেজি ডিএমই উৎপাদন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। ভারতের এই প্রযুক্তি পেতে ইতিমধ্যেই ফিনল্যান্ড ও ঘানার মতো দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশা, এই জ্বালানির বাণিজ্যিক উৎপাদন পুরোদমে শুরু হলে আমদানিকৃত এলপিজির ওপর ভারতের নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং সাধারণ মানুষের সাশ্রয় হবে।‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন