সমকালীন প্রতিবেদন : আইপিএলের আঙিনায় কলকাতা নাইট রাইডার্স কেবল একটি ক্রিকেট দল নয়, বরং এটি বর্তমানে একটি অত্যন্ত সফল ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত হয়েছে। ২০০৮ সালে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা এক অনন্য উচ্চতা স্পর্শ করেছে। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনী দুনিয়া এবং ব্র্যান্ড মূল্যের নিরিখে কেকেআর এখন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি।
২০০৮ সালে বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের সংস্থা ‘রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট’ মাত্র ৭.৫ কোটি ডলারের বিনিময়ে এই দলটিকে কিনেছিল। বিগত ১৮ বছরে কেকেআরের ব্র্যান্ড ভ্যালু বা বাজারমূল্য প্রায় ১৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২২.২ কোটি ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২,০৫৯ কোটি টাকা) পৌঁছেছে।
আইপিএলের বর্তমান ১০টি দলের মধ্যে ব্র্যান্ড মূল্যের বিচারে চতুর্থ স্থানটি দখল করে রেখেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই সাফল্যের নেপথ্যে শাহরুখ খানের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা বা ‘স্টারডম’ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির সুনিপুণ মার্কেটিং কৌশলকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেকেআরের প্রভাব এখন আর শুধু ২২ গজের লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফ্যাশন এবং লাইফস্টাইলের জগতেও এই দল নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। বেগুনি-সোনালি জার্সির প্রতি সমর্থকদের আবেগ এবং শাহরুখের ব্যক্তিগত ক্যারিশমাকে কাজে লাগিয়ে বড় বড় বহুজাতিক সংস্থাগুলো কেকেআরের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার স্পনসরশিপ চুক্তি করতে আগ্রহী থাকে।
অন্যদিকে, ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা দলের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ৬৮ হাজারেরও বেশি দর্শকাসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামে প্রতিটি ম্যাচ থেকে উপচে পড়া ভিড় দলের উৎসাহ ও বাণিজ্যিক মুনাফা, উভয়কেই কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ২০২৪ সালের আইপিএল ট্রফি জয়ের পর নাইট শিবির যখন আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছিল, তখনই কিছুটা ধাক্কা দিয়েছে বর্তমান মরসুমের ফর্ম।
২০২৫ সালের মেগা নিলামে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি দল পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। মোট ১২৪.৫৫ কোটি টাকা খরচ করে তারা সাজিয়েছে নতুন ব্রিগেড। দলের দীর্ঘদিনের ভরসা রিঙ্কু সিং (১৩ কোটি), সুনীল নারিন (১২ কোটি) এবং বরুণ চক্রবর্তীকে (১২ কোটি) ধরে রাখার পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে ২৫.২০ কোটি টাকার রেকর্ড মূল্যে দলে নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে অভিজ্ঞ অজিঙ্কা রাহানের কাঁধে দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থাকলেও কেকেআরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। ইডেনে দর্শক সংখ্যার সাময়িক হ্রাস এবং মাঠের লড়াইয়ে ধারাবাহিকতার অভাব ভাবিয়ে তুলছে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
যদিও বিপুল ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং শক্তিশালী আর্থিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে কেকেআর কর্তৃপক্ষ আত্মবিশ্বাসী যে, খুব দ্রুতই তারা এই কঠিন সময় কাটিয়ে আবার জয়ের সরণিতে ফিরবে। ক্রিকেটের গ্ল্যামার আর ব্যবসায়িক বুদ্ধির এই মেলবন্ধন কতদিন নাইটদের সাফল্যের শীর্ষে ধরে রাখে, এখন সেটাই দেখার।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন