Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

বিচারাধীন গেরো মুক্ত ভোটার তালিকা: ২৩ এপ্রিলের আগে ১৫২ আসনে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ কমিশনের

 

Final-voter-list

সমকালীন প্রতিবেদন : জল্পনা আর আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলসহ মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ। তার ঠিক ১২ দিন আগে বুথভিত্তিক এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কাজ শুরু হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ‘বিচারাধীন’ হয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেল।

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় খসড়া তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ বা ঝুলে ছিল। কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা এই বিশাল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি করেন। আটটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকার মাধ্যমে দেখা গেছে, ৬০ লক্ষের মধ্যে প্রায় ৩৩ লক্ষ ভোটারকে ‘যোগ্য’ বলে গণ্য করেছেন বিচারকরা। এই যোগ্য ভোটারদের নাম মূল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন প্রায় ২৭ লক্ষ আবেদনকারী। এই বাদ পড়া ভোটাররা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। তবে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। অনলাইন এবং অফলাইন– উভয় মাধ্যমেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এবারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিশেষ স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে কমিশন। প্রকাশিত তালিকায় প্রতিটি বুথের জন্য পৃথক পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে। তালিকায় কেবল যুক্ত হওয়া নতুন ভোটারদের নামই নয়, বরং ‘বিয়োজিত’ বা ডিলিট হওয়া ভোটারদের নামও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকার শেষ পাতায় দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র, যেখানে ওই বুথের মোট ভোটার সংখ্যা এবং বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের সংখ্যা আলাদা কলামে চিহ্নিত করা রয়েছে। এর ফলে বুথভিত্তিক সঠিক চিত্র খুব সহজেই ভোটাররা বুঝতে পারবেন।

কমিশন জানিয়েছে, জেলাগুলোতে তালিকা পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং তা অনলাইনেও পাওয়া যাচ্ছে। তবে শনিবার সকাল থেকেই কমিশনের ওয়েবসাইটে ব্যাপক প্রযুক্তিগত সমস্যা বা সার্ভার ডাউন থাকায় সাধারণ মানুষের তালিকা ডাউনলোড করতে সমস্যা হচ্ছে। কমিশন সূত্রের খবর, এই টেকনিক্যাল সমস্যা মেটানোর কাজ চলছে।

প্রথম দফার ১৫২টি কেন্দ্রের জন্য ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ২৩ এপ্রিলের আগে এই আসনগুলিতে আর কোনও নতুন নাম সংযোজন বা বিয়োজন করা সম্ভব হবে না। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই চূড়ান্ত তালিকা এখন রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন