Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

চৈত্রশেষে দহনজ্বালা: নববর্ষের মুখে তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে বাংলা, ধেয়ে আসছে ‘লু’

 

Severe-Heatwave

সমকালীন প্রতিবেদন : বসন্তের বিদায়ঘণ্টা বাজার আগেই রুদ্ররূপ ধারণ করছে প্রকৃতি। গত কয়েকদিনের বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির আমেজ কাটিয়ে দক্ষিণবঙ্গ থেকে মেঘ এখন পুরোপুরি উধাও। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে চড়চড়িয়ে বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রার পারদ। যার জেরে অস্বস্তিকর গরমে সকাল থেকেই নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আগামী এক সপ্তাহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই, বরং তাপমাত্রার পারদ এক ধাক্কায় ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলবে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং শুষ্ক পশ্চিমা বাতাসের সংঘাতের ফলে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে অস্বস্তি চরমে পৌঁছাবে। ১৩ থেকে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে অর্থাৎ নববর্ষের শুরুতেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ‘লু’ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপপ্রবাহ বা ‘হিট ওয়েভ’-এর সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আগামী সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে তীব্র দাবদাহ দাপট দেখাবে। বৃষ্টির দেখা না মেলায় রোদের তেজ এতটাই বাড়বে যে, বেলার দিকে পথঘাটে চলাচল করা দায় হয়ে উঠবে।

শনিবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশে চড়া রোদ দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে চার দিন মহানগরীতে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। শনিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি কম। তবে এই আরামদায়ক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। রবিবারের মধ্যেই কলকাতার পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৫০ থেকে ৯৭ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করায় ঘর্মাক্ত ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে বুধবার পর্যন্ত।

বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং ঝাড়গ্রামে তীব্র গরমের বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। সোমবার এই জেলাগুলির দু-এক জায়গায় স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে সামান্য ছিটেফোঁটা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, তা গরম কমানোর পক্ষে যথেষ্ট হবে না। বরং সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে এই জেলাগুলিতে গরম ও অস্বস্তি আরও বাড়বে। গরম বাতাসের দাপটে স্থানীয়দের দুপুরের দিকে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দক্ষিণের মতো উত্তরবঙ্গেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, উত্তরবঙ্গের সমতলের জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকা অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির আবহাওয়া কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। সেখানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পার্বত্য জেলাগুলিতে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে, যা সমতলের দহনজ্বালা থেকে খানিকটা হলেও মুক্তি দেবে পর্যটকদের।

সব মিলিয়ে চৈত্রসংক্রান্তি এবং বাঙালির প্রিয় উৎসব পয়লা বৈশাখের শুরুটা এবার চাঁদিফাটা রোদে পুড়েই কাটতে চলেছে। রোদের তীব্রতা এবং প্যাচপ্যাচে গরম থেকে বাঁচতে চিকিৎসকরা বেশি করে জল পান করার এবং ছাতা-টুপি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। বৃষ্টির জন্য আপাতত কয়েকদিন হাহাকার বাড়বে বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। ওষ্ঠাগত এই গরম থেকে দ্রুত নিষ্কৃতি পাওয়ার কোনও লক্ষণ আপাতত মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে না।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন