সমকালীন প্রতিবেদন : এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝে ফের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ, শনিবার রাত ঠিক ৮টা ৩০ মিনিটে তিনি দেশবাসীর সামনে হাজির হবেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ভাষণের বিষয়বস্তু নিয়ে সরাসরি কোনো তথ্য প্রকাশ করা না হলেও, সংবাদসংস্থা পিটিআই এই ভাষণের সময় নিশ্চিত করার পর থেকেই দেশজুড়ে জল্পনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। অতীতে নোটবন্দি বা লকডাউনের মতো বড় সিদ্ধান্তগুলো এই ধরনের আকস্মিক ভাষণের মাধ্যমেই ঘোষিত হয়েছিল, তাই আজ রাতে মোদী কোনো ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দেবেন কি না, তা নিয়ে সর্বত্র চর্চা চলছে।
প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময়ে দেশবাসীকে বার্তা দিতে আসছেন, যখন সংসদের বিশেষ অধিবেশনে সরকার পক্ষ এক বড়সড় সংসদীয় ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে। মহিলাদের জন্য লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি শুক্রবার লোকসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় খারিজ হয়ে গিয়েছে। সংবিধান সংশোধনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন থাকলেও, বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট।
বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে এই বিলের বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ ছিল, ২০২৯ সালের আগে নতুন জনগণনা ছাড়াই আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার যে পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে, তা আসলে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা। এই বিল খারিজ হওয়া মোদী সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ২০২৯ সালের আগে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরের বিষয়টি অনিশ্চিত করে তুলল। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আজকের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই বিল খারিজ হওয়া নিয়ে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করতে পারেন এবং দেশের মহিলাদের জন্য কোনো বিকল্প পথ বা বিশেষ বার্তার ঘোষণা করতে পারেন।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির গুরুত্বও আজকের ভাষণে প্রতিফলিত হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় বা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালেই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তার বিষয়ে ক্যাবিনেট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে যাতে প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে সরকার আগাম কোনো সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। অনেকে মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী আজ ‘আংশিক এনার্জি লকডাউন’ বা জ্বালানি সাশ্রয়ে কোনো কঠোর নির্দেশিকা জারি করতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি প্রধান ইস্যুকে স্পর্শ করতে পারেন।
সেগুলি হল– মহিলাদের জন্য বিশেষ অধ্যাদেশ: সংসদীয় পথে বিল আটকে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী কি কোনো অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ আনার ঘোষণা করবেন?
নির্বাচনী কৌশল: সামনেই পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে জাতীয় ভাবাবেগ উসকে দিতে কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জাতীয় নিরাপত্তা: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও কৌশলগত অবস্থান নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে পারেন তিনি।
অতীতে এই ধরনের ভাষণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বারবার দেশবাসীকে চমকে দিয়েছেন। ফলে আজকের রাত সাড়ে ৮টা যে ভারতের রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রী কি কেবল সংসদের ব্যর্থতা নিয়ে সাফাই দেবেন, নাকি নোটবন্দির মতো কোনো বড় এবং অভাবনীয় ঘোষণা করে ফের একবার জাতীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেবেন। গোটা দেশের নজর এখন টেলিভিশনের পর্দার দিকে।










কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন