Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

আইপিএলে শ্রেয়স-ঝড়: নেতৃত্বের ব্যাটন কি তবে এবার আইয়ারের হাতে?

 ‌

Shreyas-Iyer

সমকালীন প্রতিবেদক : ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, আর শ্রেয়স আইয়ার যেন সেই অনিশ্চয়তাকে জয় করার এক জীবন্ত রূপকথা। মাত্র ছয় মাস আগেও যাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার চোটের কালো মেঘে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল, ২০২৬ সালের আইপিএলে তিনি এখন মধ্যগগনের সূর্য। পাঞ্জাব কিংসের জার্সিতে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কেবল রান বা রেকর্ড নয়, বরং জাতীয় দলের নির্বাচকদের জন্য এক জোরালো বার্তাও বটে।

গত বছর একটি কঠিন ক্যাচ নিতে গিয়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন শ্রেয়স। দীর্ঘ দুই মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। চলতি বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজে ফিরলেও চেনা ছন্দে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে ২০২৬ সালের আইপিএল যেন শ্রেয়সকে নতুন রূপ দিল। টানা তিনটি ইনিংসে ৫০, অপরাজিত ৬৯ এবং ৬৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ছন্দে ফিরলে তিনি কতটা ভয়ঙ্কর। তাঁর এই ধারাবাহিকতার ওপর ভর করেই পাঞ্জাব কিংস এখন আইপিএল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে আধিপত্য বিস্তার করছে।

একটা সময় পাঞ্জাব কিংস ছিল আইপিএল তালিকার মধ্যম সারির একটি দল। ২০২৬ সালের নিলামে শ্রেয়স আইয়ারকে দলে নেওয়া ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত। শ্রেয়স আসার পর থেকেই দলের মানসিকতা ও খেলার ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। গত মরশুমে দলকে ফাইনালে তোলা থেকে শুরু করে চলতি মরশুমে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া– শ্রেয়স প্রমাণ করেছেন তিনি কেবল একজন বড় মাপের ব্যাটার নন, বরং একজন দক্ষ রণকৌশলীও।

২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১১ ম্যাচে ৫৩০ রান করে দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠেছিলেন শ্রেয়স। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে জাতীয় দলে তাঁকে নিয়মিত দেখা যায় না। যেখানে শুভমান গিলকে নেতৃত্বের পরবর্তী দাবিদার হিসেবে ভাবা হচ্ছে, সেখানে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নেতৃত্বের গুণাবলী এবং অভিজ্ঞতায় শ্রেয়স আইয়ার অনেক বেশি এগিয়ে। বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটে মুম্বইকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং আইপিএলে একাধিক দলকে সফলভাবে চালনা করার রেকর্ড তাঁর ঝুলিতে রয়েছে।

২০১৯ সাল থেকেই শ্রেয়সকে ভবিষ্যতের অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কিন্তু বারবার চোট এবং নির্বাচকদের অবহেলায় তিনি ব্রাত্য থেকে গিয়েছেন। বর্তমানে যখন ভারতীয় ক্রিকেটে 'এক ফরম্যাটে এক অধিনায়ক' তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন শ্রেয়স আইয়ারের মতো একজন ফর্মে থাকা খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের বাইরে রাখাটা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি শুভমান গিল অধিনায়ক হিসেবে নিজের জায়গা সুসংহত করতে ব্যর্থ হন, তবে শ্রেয়স আইয়ারই হতে পারেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের যোগ্যতম কান্ডারি।

সব মিলিয়ে শ্রেয়স এখন তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। তিনি রান করছেন, দলকে জেতাচ্ছেন এবং নিখুঁতভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের দাবি এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। ক্রিকেট ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, আর কতদিন উপেক্ষিত থাকবেন এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার? এবার কি তবে শ্রেয়স আইয়ারের হাতেই উঠতে চলেছে জাতীয় দলের ব্যাটন? উত্তরটা হয়তো সময়ের গর্ভেই লুকানো।‌‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন