সমকালীন প্রতিবেদন : প্রথম দফার ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গসহ রাজ্যের ১৫২টি আসনে নির্বাচন। এই দফায় অবাধ, স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণ ভোটদান নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। পোলিং বুথের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ভোটার স্লিপ বিলি– প্রতিটি পদক্ষেপে এবার জারি করা হয়েছে বিশেষ নির্দেশিকা। তবে সবথেকে নজরকাড়া সিদ্ধান্ত হলো বুথের চারপাশে ‘লক্ষ্মণরেখা’ বা নির্দিষ্ট সীমান্ত চিহ্নিতকরণ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার প্রতিটি পোলিং বুথের চারপাশে সাদা চক দিয়ে ১০০ মিটারের একটি বৃত্তাকার গণ্ডি বা ‘লক্ষ্মণরেখা’ টেনে দেওয়া হবে। এই সীমানার মধ্যে ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ট বা বহিরাগতরা এই বৃত্তের ভেতর জমায়েত করতে পারবেন না। এই গণ্ডির ঠিক বাইরে থাকবেন বিএলও এবং সরকারি আধিকারিকরা, যারা ভোটারদের প্রাথমিক নথি যাচাই করবেন।
ভুয়ো ভোটদান রুখতে এবার নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও মজবুত করা হয়েছে। ১০০ মিটারের বৃত্তের ভেতরে প্রবেশের পর ভোটারদের আরও দুটি টেবিলের সামনে দিয়ে যেতে হবে। সেখানে দ্বিতীয় দফায় তাঁদের সচিত্র পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হবে। কমিশনের লক্ষ্য হলো, কোনোভাবেই যাতে একজন ভোটারের বদলে অন্য কেউ ভোট দিতে না পারে।
ভোটার স্লিপ বিলির ক্ষেত্রেও এবার নতুন নিয়ম চালু করেছে কমিশন। বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্লিপ পৌঁছে দেবেন। যদি কোনো কারণে কাউকে স্লিপ দেওয়া না যায়, তবে সেই তথ্য বিস্তারিতভাবে প্রিসাইডিং অফিসারকে জানাতে হবে। এমনকি ভোটের দিন কোনো ভোটার যদি কেন্দ্রে আসেন এবং স্লিপ বিলির সময় তিনি বাড়িতে না থেকে থাকেন, তবে প্রিসাইডিং অফিসার তাঁকে অনুপস্থিতির কারণ জিজ্ঞাসা করবেন। তবে চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকার নাম ও ছবির সঙ্গে মিল থাকলেই তাঁকে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি সক্রিয়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটের দিন কোনো রকম অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কোনো থানার ওসির তরফে সামান্যতম গাফিলতি ধরা পড়লে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কমিশন।
স্বচ্ছ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নয়া মাত্রা যোগ করতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, এই ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা বলয় আর কড়া বিধিনিষেধের বেড়াজালে ২৩ এপ্রিলের নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন