সমকালীন প্রতিবেদন : সমাজের অন্ধকার গলিপথ থেকে উদ্ধার হওয়া এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে নারী অবশেষে মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন। তবে এই আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে আছে কি কোনও চরম লাঞ্ছনা ও পাশবিকতার ইতিহাস? গত ৩ মার্চ বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে এক ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ওই মহিলা। বর্তমানে মা সুস্থ থাকলেও নবজাতকটি চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মাসের ৭ তারিখে। বনগাঁ থানার মুড়িঘাটা এলাকায় ওই অসহায় মহিলাকে ভবঘুরে অবস্থায় লক্ষ্য করেন স্থানীয়রা। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এলাকার এক আশা কর্মী। পুলিশি সহযোগিতায় দ্রুত তাঁকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন থেকেই চিকিৎসকদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৩ মার্চ, মঙ্গলবার ওই মহিলা সন্তানের জন্ম দেন। বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বাড়ুই জানান, 'গত মাসের ৭ তারিখ থেকে ওই মহিলা আমাদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন। ৩ মার্চ তিনি একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। জন্মের সময় শিশুটির ওজন একটু কম এবং সামান্য শারীরিক জটিলতা থাকায় তাকে বর্তমানে হাসপাতালের এসএনসিইউ–তে রাখা হয়েছে। মা সুস্থ আছেন।'
তিনি আরও জানান যে, হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর মাকে রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট কোনো সরকারি হোমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, শিশুটিকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন উদ্ধারকারীদের মানবিকতা এবং চিকিৎসকদের দায়বদ্ধতা প্রশংসা কুড়াচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই সমাজের এক কুৎসিত চেহারা কি সামনে আসলো? একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার এই অবস্থার জন্য দায়ী কে? রাস্তায় অসহায় অবস্থায় থাকা একজন নারী কি কোনও লালসার শিকার হলেন? আসল সত্য অবশ্য এখনও সামনে আসে নি। কারণ, ওই মহিলা ঠিকভাবে কথাই বলতে পারেন না।
শুক্রবার ওই মহিলাকে দেখতে যান বনগাঁ থানার আইসি সহ হাসপাতালের আধিকারিকেরা। মহিলার হাতে বিভিন্নরকম ফল এবং শিশুটির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন থানার আইসি রাকেশচন্দ্র সাধুখাঁ।
নবজাতক শিশুটিকে ঘিরে এখন নতুন স্বপ্নের বুনন চলছে হাসপাতাল চত্বরে। চিকিৎসকদের আশা, উপযুক্ত সরকারি আশ্রয়ে শিশুটি এক নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে বেড়ে উঠবে। কিন্তু সমাজের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায়– আর কতদিন এভাবে অসুরক্ষিত অবস্থায় রাস্তায় রাত কাটাবেন অসহায় মহিলারা?








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন