সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যের ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ নামের জট দ্রুত কাটাতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, কাজের গতি বাড়াতে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আরও ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে নিয়ে আসা হচ্ছে। শনিবারই তাঁদের রাজ্যে পৌঁছনোর কথা।
মূলত দক্ষিণবঙ্গের আটটি জেলাকে ‘পাখির চোখ’ করেই এই বিশেষ পদক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে ৫০৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাচ্ছেন। কিন্তু কাজের বিপুল চাপের কথা মাথায় রেখে ওড়িশা থেকে ১০০ জন এবং ঝাড়খণ্ড থেকে ১০০ জন অফিসারকে আনা হচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, ভিন্ রাজ্য থেকে আসা এই অফিসারদের মূলত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, বীরভূম এবং নদিয়া– এই আটটি জেলায় মোতায়েন করা হবে।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জন। উল্লেখ্য, এই ৭ কোটির মধ্যেই রয়েছে ওই ৬০ লক্ষ নাম, যাদের ভোটাধিকার এখনও চূড়ান্ত ছাড়পত্র পায়নি।
সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, "নিষ্পত্তির অর্থই চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠে আসা নয়। নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর যাঁদের দাবি বৈধ প্রমাণিত হবে, কেবল তাঁরাই মূল তালিকায় ঠাঁই পাবেন।" এসআইআর প্রক্রিয়ায় জীবিত ভোটারদের ‘মৃত’ বলে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিছু ক্ষেত্রে। এই প্রসঙ্গে সিইও বলেন, “যদি কোনও জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়, তবে আমাদের কাছে অভিযোগ জানান। আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ করব। দেখা হবে কার গাফিলতিতে বা কোন উদ্দেশ্যে এমনটা করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত কেউ নাম বাদ দিয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।”
ভোটার তালিকার এই অচলাবস্থা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন তুঙ্গে। বিপুল সংখ্যক নামের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কোনও ভোট করানো যাবে না– এই দাবিতে বিরোধীরা সরব হয়েছে। শুক্রবার এই এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ধরনায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। অন্যদিকে, সিইও দফতরের সামনে ধরনা কর্মসূচি পালন করছে বামেরা।
বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা মালদহ– ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন, মুর্শিদাবাদ তালিকায় শীর্ষস্থানে। আগামী ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি। সেখানে কমিশন জানাবে কত নামের নিষ্পত্তি হলো এবং বিচার প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে রয়েছে। আদালতের নির্দেশের ওপরই নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের চূড়ান্ত রূপরেখা।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন