সমকালীন প্রতিবেদন : ফুটবল বিশ্বে ফুটবলার ‘ধার’ দেওয়া বা ‘লোন ডিল’ অত্যন্ত পরিচিত একটি শব্দবন্ধ। ক্লাব ফুটবলের সেই ধাঁচেই ২০১৮ সাল থেকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএলে লোন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিল বিসিসিআই। যদিও গত কয়েক বছরে এই নিয়ম খুব একটা ব্যবহৃত হতে দেখা যায়নি, তবে চলতি মরশুমে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) শিবিরে চোটের ধাক্কা ফের এই লোন চুক্তিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
গত বছর রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে। চলতি মরশুমেও বিধ্বংসী ফর্মে ছিলেন তিনি। ৬ ম্যাচে ২০১ রান করে সিএসকে-র ব্যাটিং স্তম্ভ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু হঠাৎই চোটের কারণে তিনি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে চেন্নাই শিবির। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)-র বিহান মালহোত্রার নাম। অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও পরামর্শ দিয়েছেন যে, আরসিবি-তে সুযোগ না পাওয়া বিহানকে যেন লোন চুক্তিতে চেন্নাই দলে নেয়।
আইপিএলে লোন চুক্তির নিয়মটি ফুটবল বা অন্যান্য লিগের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন এবং কড়া। কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি চাইলেই হুট করে অন্য দলের প্লেয়ার নিতে পারে না। এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশিকা মানতে হয়। আহত ক্রিকেটারকে অবশ্যই বিসিসিআই-এর মেডিকেল প্যানেলের মাধ্যমে ডাক্তারি পরীক্ষা দিয়ে চোটের গুরুত্ব প্রমাণ করতে হবে।
লিগের ৭ নম্বর ম্যাচ থেকে ৩৪ নম্বর ম্যাচের মধ্যে এই লোন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। যে দল থেকে ক্রিকেটার নেওয়া হচ্ছে, তারা যেন সেই সময় পর্যন্ত ১২টির বেশি ম্যাচ না খেলে। অন্যদিকে, যে ক্রিকেটারকে লোনে নেওয়া হচ্ছে, তিনি যেন তাঁর পুরনো দলের হয়ে চলতি মরশুমে ২টির বেশি ম্যাচ না খেলে থাকেন।
লোন নেওয়া ক্রিকেটারকে পুরো মরশুম নতুন দলেই থাকতে হবে, মাঝপথে পুরনো দলে ফেরার সুযোগ নেই। এমনকি তিনি তাঁর পুরনো দলের বিরুদ্ধে কোনো ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না। প্লেয়ারের বার্ষিক চুক্তির টাকা পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজি দিলেও প্রতিটি ম্যাচের ‘ম্যাচ ফি’ দেবে নতুন দল। লোন ফি কত হবে তা দুই দলের আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। জোর করে কাউকে লোনে পাঠানো সম্ভব নয়। পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল।
২০১৮ সালে যখন এই নিয়ম চালু হয়, তখন উইন্ডো ছিল মাত্র ৫ দিনের এবং শুধুমাত্র 'আনক্যাপড' প্লেয়ারদের জন্য এই সুযোগ ছিল। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বা 'ক্যাপড' প্লেয়ারদেরও এই নিয়মের আওতায় আনা হয়। ২০২০ সালে এই নিয়মকে আরও নমনীয় ও কার্যকর করা হয় যাতে দলগুলো চোট-আঘাতের সমস্যা সামলাতে পারে।
বর্তমানে চেন্নাইয়ের সামনে দুটি রাস্তা খোলা। বিহান মালহোত্রাকে নিতে হলে আরসিবির সঙ্গে লোন চুক্তিতে যেতে হবে। পাশাপাশি অশ্বিন আরও এক তরুণ প্রতিভা অভিজ্ঞান কুণ্ডুর নাম প্রস্তাব করেছেন। যেহেতু অভিজ্ঞান বর্তমানে কোনো আইপিএল দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন, তাই তাঁকে সরাসরি দলে নিতে সিএসকে-র কোনো লোন চুক্তির প্রয়োজন পড়বে না। এখন দেখার, মহেন্দ্র সিং ধোনির দল শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ অশ্বিনের পরামর্শ মেনে কোন পথে তাদের ট্রফি জয়ের অভিযান জারি রাখে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন