Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

অবাধ ভোট করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, পুলিশকর্মীদের কড়া বার্তা বনগাঁর পুলিশ সুপারের

 

Free-and-Fair-Elections

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ মহকুমা এলাকায় কোনওরকম অশান্তি ছাড়াই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সব নির্দেশিকা পুলিশকর্মীদের সামনে তুলে ধরলেন বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত। রবিবার বিভিন্ন থানা পরিদর্শন করে তিনি সেখানকার পুলিশ অফিসার ও কর্মীদের বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন এই গাইডলাইন।

পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটের আগে থেকে শুরু করে ভোটের দিন এবং ভোটের পরবর্তী সময় পর্যন্ত কোনো ধরনের সন্ত্রাসী পরিবেশ যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে প্রতিটি পুলিশকর্মীকে। ভোটারদের কোনোভাবেই ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়া চলবে না। প্রত্যেক ভোটার যাতে নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।

ভোটের সময় অনেকক্ষেত্রেই বুথ জ্যাম, ছাপ্পা ভোট বা কোনো ধরনের অসাধু উপায়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগ বারে বারে ওঠে। ভোটের দিন এইধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অভিযোগ বা খবর আসামাত্রই পুলিশকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে ইতিমধ্যেই বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোট ১১টি নাকা পয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে। স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনী সকাল, দুপুর ও রাতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। এই টহলের উদ্দেশ্য শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বাড়ানো।

পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, “নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি নির্দেশ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। কোনো ধরনের অপচেষ্টা সহ্য করা হবে না। ভোটাররা যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ আমরা ভায়োলেন্স ফ্রি নির্বাচন চাই। এবার আমাদের জিরো টলারেন্স লক্ষ্য।”

দিন কয়েকের মধ্যে পুরোদমে ভোটের প্রচার শুরু হয়ে যাবে। সেই সময় নজরদারি বাড়াতে হবে, রুট মার্চের সময় ভোটারদের আশ্বস্ত করা হবে যে, যদি কেউ ভয় দেখায়, সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা যেন পুলিসকে বিষযটি জানান। ভোটে প্ররোচনা দেওয়া, ভয় দেখানোর অবিযোগ এলে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে বলে পুলিশ সুপার জানান। 

বুথের ভেতরে কোনও ব্যক্তি বিনা কারনে দাঁড়িয়ে থেকে অনিয়ম করছে, প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়ামাত্র কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতে হবে বলেও নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। ভোটের দিন যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তারজন্য পুলিশ প্রশাসনের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এর সঠিক বাস্তবায়ন কতটা হয়, এখন সেটাই দেখার।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন