সমকালীন প্রতিবেদন : সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক শ্রেণির স্কুল শিক্ষকের প্রাইভেট টিউশন পড়ানোর রমরমা কারবারের বিরুদ্ধে ফের কড়া আন্দোলনে নামলেন গৃহশিক্ষকরা। সোমবার 'সর্বভারতীয় গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতি'র বনগাঁ মহকুমা শাখার পক্ষ থেকে এক প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে সমিতির সভাপতি গৌতম মজুমদার ও সম্পাদক মানবেন্দ্র হালদারের নেতৃত্বে শতাধিক গৃহশিক্ষক বনগাঁর অতিরিক্ত স্কুল জেলা পরিদর্শকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
সমিতির পক্ষ থেকে একগুচ্ছ দাবিসনদ পেশ করা হয়েছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরানো। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হলো, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন পড়ানো আইনত নিষিদ্ধ। সেই সরকারি নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
অভিযোগ উঠেছে, অনেক স্কুল শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের প্রজেক্টের নম্বরের ভয় দেখিয়ে নিজেদের কাছে টিউশন পড়তে বাধ্য করছেন। এই অনৈতিক প্রথা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়ে পঠনপাঠনের সঠিক পরিবেশ ও পরিকাঠামো ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা, যাতে পড়ুয়ারা স্কুলের শিক্ষার ওপরই নির্ভরশীল হতে পারে।
আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা কেবল ডেপুটেশন দিয়েই ক্ষান্ত থাকবেন না। আগামী দিনে তথ্য জানার অধিকার আইনে প্রতিটি স্কুলে খোঁজ নেওয়া হবে কোন কোন শিক্ষক গৃহশিক্ষকতা করছেন। যদি কোনো শিক্ষক বা স্কুল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে ভুল তথ্য প্রদান করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুনরায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হবে সমিতি।
সমিতির সম্পাদক মানবেন্দ্র হালদার জানান, "সরকারি বেতনভোগী শিক্ষকরা যদি আইন ভেঙে গৃহশিক্ষকতা করেন, তবে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে টান পড়ছে। এই দ্বিচারিতা আমরা মেনে নেব না। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি করছি।"
বনগাঁর অতিরিক্ত স্কুল জেলা পরিদর্শক এই ডেপুটেশন গ্রহণ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখার, শিক্ষা দপ্তর এই বেআইনি টিউশন রুখতে বাস্তবে কতটা কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন