সমকালীন প্রতিবেদন : পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দীর্ঘ টালবাহানা ও আইনি প্রক্রিয়ার পর আগামীকাল, সোমবার প্রকাশিত হতে চলেছে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার আগে এই তালিকা জনসমক্ষে আনা সম্ভব নয়। একদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন, অন্যদিকে কমিশনের নতুন দপ্তরের নিরাপত্তা– এই দুই ইস্যুতেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করেছে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা ভোটার সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে এই ট্রাইবুনালে। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সমন্বয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, এই ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক বিচারপতির সঙ্গে থাকবেন দু’জন করে পুলিশি নিরাপত্তা রক্ষী। তবে ট্রাইবুনালগুলি পূর্ণদমে কাজ শুরু করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। কারণ, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজ এখনও প্রক্রিয়াধীন। এই পরিকাঠামো সম্পূর্ণ হলেই সাধারণ মানুষ তাঁদের দাবি বা আপত্তি নিয়ে ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে শুক্রবার এই তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, যান্ত্রিক ও প্রশাসনিক কারণে তা পিছিয়ে সোমবার করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যের ৮০ হাজারেরও বেশি বুথের মধ্যে সবকটিতে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সমস্যা নেই। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার বুথের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
কালিম্পং, ঝাড়গ্রাম এবং দার্জিলিংয়ের মতো পাহাড়ি ও জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে এমন বুথের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ফলস্বরূপ, শুধুমাত্র যে বুথগুলিতে বিবেচনাধীন আবেদনকারী রয়েছেন, সেই বুথগুলির জন্যই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হবে। জুডিশিয়াল অফিসারদের থেকে সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাওয়ার পরেই ধাপে ধাপে এই তালিকা কমিশনের পোর্টালে আপলোড করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের নতুন ঠিকানা হতে চলেছে শিপিং কর্পোরেশনের অফিস। আগামীকাল, সোমবার থেকেই সেখানে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। তবে কমিশনের এই নতুন দপ্তরের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তরের একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, কমিশনের এই নয়া অফিস চত্বরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু ফাঁকফোকর থাকতে পারে।
গোয়েন্দা রিপোর্টের গুরুত্ব বিচার করে কমিশন সেখানে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম স্তর: কলকাতা পুলিশের বিশেষ বাহিনী দপ্তরের বাইরের চত্বর নজরে রাখবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তর: অফিসের মূল প্রবেশপথ এবং স্পর্শকাতর বিভাগগুলির নিরাপত্তায় থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরকে কার্যত দুর্গের চেহারায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তালিকা প্রকাশের পর সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনে রাজ্য জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে কমিশন। বিশেষত তালিকায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যাতে কোনো এলাকায় উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকে নজর রাখতে জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা বাজলেই সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন তাঁদের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন