সমকালীন প্রতিবেদন : সাতসকালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে উঠল গাইঘাটা থানার কারোলা গ্রাম। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জখম গৃহবধূর নাম দীপা মণ্ডল। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কারোলা গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত মণ্ডলের বাড়িতে মাস খানেক ধরে ভাড়া থাকছিলেন সুপর্ণা সরকার নামে এক মহিলা। কয়েকদিন আগে তাঁর বাড়িতে বেড়াতে আসেন তাঁর বান্ধবী তথা গাইঘাটার ধরমপুর এলাকার বাসিন্দা দীপা মণ্ডল। অভিযোগ, দীপা তাঁর স্বামী শম্ভু সরকারকে না জানিয়েই বান্ধবীর বাড়িতে থাকছিলেন।
শনিবার সকালে আচমকাই সুশান্ত মণ্ডলের বাড়ির সামনে হাজির হন দীপার স্বামী শম্ভু সরকার। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাড়ির সামনে স্ত্রীকে দেখা মাত্রই রণমূর্তি ধারণ করে সে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজের কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে দীপার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শম্ভু। এলোপাথাড়ি কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ। তাঁর আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে অভিযুক্ত শম্ভু এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে জটিল ত্রিকোণ প্রেম এবং পারিবারিক বিবাদ। শম্ভু সন্দেহ করত যে তার স্ত্রী অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন, আর সেই কারণেই তিনি বাড়ি ছেড়ে বান্ধবীর আশ্রয়ে থাকছিলেন। এই সন্দেহের বশবর্তী হয়েই রাগের মাথায় স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রক্তাক্ত অবস্থায় দীপা মণ্ডলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গাইঘাটা থানার পুলিশ। অভিযুক্ত স্বামী শম্ভু সরকারের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন