Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

১১ জেলার ডিএম ও কলকাতার কমিশনারকে সরাল নির্বাচন কমিশন

 

Election-Commission

সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতে না হতেই বাংলা প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটিয়েই চলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। বুধবার এক নজিরবিহীন পদক্ষেপে রাজ্যের অর্ধেকের বেশি জেলার জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সরিয়ে দিল কমিশন। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার কমিশনার এবং দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-কেও বদল করা হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বলে মনে করা হচ্ছে।

বুধবার সকাল থেকেই কমিশনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সকালেই রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ এবং জলপাইগুড়ির ডিআইজি-দের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হয়। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেলাশাসক স্তরে এই বিশাল রদবদল ঘটানো হলো। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, এই আধিকারিকদের অবিলম্বে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টের মধ্যে বদলি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি জেলার প্রশাসনিক রাশ এখন নতুন আধিকারিকদের হাতে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা:

কোচবিহারে জিতেন যাদব, জলপাইগুড়িতে সন্দীপ ঘোষ, উত্তর দিনাজপুরে বিবেক কুমার, দার্জিলিংয়ে হরিচন্দ্র পানিক্কর এবং আলিপুরদুয়ারে টি বালাসুব্রহ্মণ্যম, মালদহে রাজনবীর সিং কাপুর এবং মুর্শিদাবাদে আর অর্জুন, নদিয়ায় শ্রীকান্ত পালিত, পূর্ব বর্ধমানে শ্বেতা আগরওয়াল, উত্তর ২৪ পরগণায় শিল্পা গৌরিসারিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণায় অভিষেক কুমার তিওয়ারি।

উল্লেখ্য, এই আধিকারিকদের মধ্যে রনধীর কুমার, স্মিতা পাণ্ডে এবং আর অর্জুন ইতিপূর্বে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় ‘রোল অবজার্ভার’ হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখেই এবার জেলা পরিচালনার গুরুদায়িত্ব দিল কমিশন।

জেলাগুলির পাশাপাশি কলকাতার বুকেও রদবদল ঘটিয়েছে কমিশন। কলকাতা পুরসভার কমিশনার তথা ডিইও-কে সরিয়ে সেই পদে আনা হয়েছে স্মিতা পাণ্ডে-কে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রণধীর কুমার-কে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টের মধ্যেই তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশিকায় একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে– যেসব আধিকারিককে সরানো হলো, ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আর কোনো নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা যাবে না। এমনকি, তাঁদের পুরনো দায়িত্বে ফিরিয়ে আনাও নিষিদ্ধ। মূলত প্রশাসনের ওপর কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যাতে না পড়ে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

একদিকে যখন পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বদলি করা হচ্ছে, অন্যদিকে তখন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জরুরি বৈঠকে বসেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। এই বৈঠকে স্পেশাল পর্যবেক্ষক, রাজ্যের নবনিযুক্ত ডিজিপি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারসহ শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত হন। 

পঞ্চায়েত বা লোকসভা ভোটের তুলনায় বিধানসভা নির্বাচনে কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর ভোটকে ঘিরে কোনো প্রকার আপস করতে নারাজ নয়াদিল্লি। এখন দেখার, এই প্রশাসনিক রদবদল আসন্ন ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন