সমকালীন প্রতিবেদন : নির্বাচন কমিশন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, কাউন্টিং পার্সোনাল, মাইক্রো অবজার্ভারসহ অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীদের দৈনিক ভাতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এই সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
২০১৪-২০১৬ সালের পর এবারই প্রথম ভাতার হারে এত বড় পরিবর্তন আনা হল। নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটকর্মীদের কাজে আরও উৎসাহ ও দক্ষতা বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন ভাতার হার (দৈনিক):
প্রিসাইডিং অফিসার ও কাউন্টিং সুপারভাইজার: আগে ৩৫০ টাকা, এখন ৫০০ টাকা।
পোলিং অফিসার: আগে ২৫০ টাকা, এখন ৪০০ টাকা।
কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট: আগে ২৫০ টাকা, এখন ৪৫০ টাকা।
গ্রুপ ডি কর্মী: আগে ২০০ টাকা, এখন ৩৫০ টাকা।
ভিডিও নজরদারি, অ্যাকাউন্টিং টিম, কল সেন্টার, ফ্লাইং স্কোয়াড ও মনিটরিং সেলের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভাতাও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে তাঁরা দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পেতেন। এখন এই হার বেড়ে হয়েছে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা।
মাইক্রো অবজার্ভারদের ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে ১ হাজার টাকা থেকে এখন তাঁরা পাবেন ২ হাজার টাকা প্রতিদিন। সিএপিএফ ও অন্যান্য আধিকারিকদের জন্যও বাড়ানো হয়েছে সুবিধা। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) ও অন্যান্য আধিকারিকদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও সংশোধন করা হয়েছে।
১৫ দিনের কম দায়িত্ব পালনকারী গেজেটেড অফিসারদের ভাতা ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার টাকা।
১৫ দিনের বেশি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ভাড়া ১ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।
১৫ দিনের কম দায়িত্বে থাকা কনস্টেবলদের ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ ও গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের খাবার ভাতাও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের ১৫০ টাকার পরিবর্তে এখন তাঁরা পাবেন ৫০০ টাকা। এছাড়া সেক্টর অফিসার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভারদের ভাতা ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটকর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়ানো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই এই ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এই পদক্ষেপ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনকে আরও সুশৃঙ্খল ও কর্মীবান্ধব করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন