সমকালীন প্রতিবেদন : গাইঘাটা থানার কারোলা গ্রামে এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী শম্ভু সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ, সোমবার অভিযুক্তকে বনগাঁ আদালতে তোলা হয়। ঘটনার নেপথ্যে ‘ত্রিকোণ প্রেম’ ও পারিবারিক কলহ রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরেই কারোলা গ্রামের বাসিন্দা শম্ভু সরকার ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ চরম আকার ধারণ করেছিল। ঘটনার দিন আচমকাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্ত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শম্ভু। অতর্কিত এই হামলায় গুরুতর জখম হন ওই গৃহবধূ। তাঁর আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ওই গৃহবধূকে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল শম্ভু। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গাইঘাটা থানার পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে তাকে জালে তুলতে সক্ষম হয়। পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত শম্ভু নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। তবে এই হামলার পেছনে সে তার স্ত্রীর ‘বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক’কে দায়ী করেছে।
অভিযুক্তের দাবি, তাঁর স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। শম্ভুর দাবি, সে তার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় খরচ করেছিলেন শ্বশুরবাড়ির ঘর তৈরি করার জন্য। কিন্তু ঘর তৈরির পর থেকেই তার সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে।
ঘটনার দিন সে অত্যন্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং রাগের মাথায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্ত্রীকে আঘাত করে বলে দাবি করেছে। পুলিশের একাংশের অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ কাজ করেছে। তবে অভিযুক্তের দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই গৃহবধূর বয়ান এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে গাইঘাটা থানার পুলিশ।
ধৃত শম্ভু সরকারকে আজ বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে স্ত্রীর উপর এই হামলার আসল কারণ জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘটনার জেরে এখনো থমথমে কারোলা গ্রাম।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন