Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

গ্ল্যামার ও প্রাচুর্যে বিশ্বসেরা হলেও মানে পিছিয়ে আইপিএল! 'ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর রিপোর্টে চাঞ্চল্য

 ‌

World-Cricketers-Association

সমকালীন প্রতিবেদন : কোটি কোটি টাকার ঝনঝনানি, গ্ল্যামার আর টানটান উত্তেজনা– সব মিলিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট লিগ হিসেবে আইপিএলের দাপট প্রশ্নাতীত। বিশ্বের তাবড় ক্রিকেটাররা এই মঞ্চে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সম্প্রতি বিশ্ব ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ যে রিপোর্ট কার্ড পেশ করেছে, তাতে বিশ্বের সেরা ক্রিকেট লিগের তকমা জুটল না আইপিএলের ভাগ্যে। তালিকার শীর্ষস্থান দখল করা তো দূরস্ত, ভারতীয় এই লিগ জায়গা পেয়েছে তৃতীয় স্থানে।

ডব্লিউসিএ-র র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ১০টি লিগের মধ্যে ৭৫.২ স্কোর নিয়ে সবার উপরে রয়েছে ইংল্যান্ডের 'দ্য হান্ড্রেড'। ৬৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার 'এসএ২০'। সেখানে আইপিএলের সংগ্রহ মাত্র ৬২.৬। রয়টার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারিশ্রমিক প্রদান এবং আর্থিক স্বচ্ছতার দিক থেকে আইপিএল ১০০-তে ১০০ পেলেও অন্য কিছু ক্ষেত্রে নম্বর কাটা গিয়েছে।

মূলত 'সমস্যা সমাধান' এবং 'খেলোয়াড়দের সংগঠিত করার অধিকার'-এর ক্ষেত্রে আইপিএল অনেকটাই পিছিয়ে। ফ্র্যাঞ্চাইজি বা বোর্ডের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়রা এখানে সংঘবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে পারেন না, যা এই রেটিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আইপিএলে বিতর্কের ইতিহাস নতুন নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ৯.২ কোটি টাকায় তাঁকে কেকেআর সই করালেও ক্রীড়াবহির্ভূত কারণে তাঁকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মনে করা হচ্ছে, ক্রিকেটারের স্বার্থের চেয়ে জনআবেগকে এখানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা ভালো চোখে দেখেনি ক্রিকেটারদের এই সংগঠন।

তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ (৬২.৫)। পাকিস্তান সুপার লিগ ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে। তবে সবচেয়ে খারাপ দশা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের। বকেয়া টাকা না মেটানো এবং মালিকপক্ষের পলায়নের মতো ঘটনার জেরে বিপিএল তালিকার একদম নিচে ঠাঁই পেয়েছে। এমনকি আবুধাবি টি-১০ লিগেরও নিচে অবস্থান করছে তারা।

আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হতে চলেছে আইপিএলের ১৯তম সংস্করণ। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ৩১ মে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের কারণে এখনও পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, গতবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আরসিবি-র সেলিব্রেশনে ১১ জনের মৃত্যু এবং হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে স্থানীয় ক্রিকেট বোর্ডের সংঘাতের মতো ঘটনা আইপিএলের গরিমাকে কিছুটা হলেও ম্লান করেছে।

ডব্লিউসিএ-র কর্মকর্তা টম মোফাট জানিয়েছেন, "বিশ্বজুড়ে লিগের সংখ্যা বাড়া ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক। তবে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা এবং পেশাদারিত্বের মানদণ্ডে আরও উন্নতির অবকাশ রয়েছে। আমরা চাই প্রতিটি লিগ সফল হোক, তবে সেখানে যেন ক্রিকেটারদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়।"‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন