সমকালীন প্রতিবেদন : দুই বিজেপি বিধায়কের পরিবারের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোপালনগর বাজার এলাকা। ঘটনার প্রতিবাদে বনগাঁ–চাকদা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। অবরোধে সামিল হন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া এবং বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদারও। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলার পর পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার বিকেলে। বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার স্ত্রী মৌমিতা কীর্তনীয়া, বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদারের শাশুড়ি-সহ কয়েকজন একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গোপালনগর থানার বেলেডাঙা চারতলা এলাকায় যান। অভিযোগ, ওই সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা গাড়িটি ঘিরে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। সেই সময় গাড়ির ভিতর থেকে কটূক্তি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে এবং এক গ্রামবাসীর হাতে আঘাত লাগে।
এর পরই উত্তেজিত স্থানীয়রা গাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। অশোক কীর্তনীয়ার অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই পরিকল্পিতভাবে তাঁর পরিবারের উপর হামলা চালায় এবং গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, ঘটনার সময় গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের আঘাতে আহত এক স্থানীয় যুবককে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনার পর মৌমিতা কীর্তনীয়ার করা অভিযোগের ভিত্তিতে গোপালনগর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সৌমেন অধিকারী নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি মারধরের ঘটনায় রঞ্জিত দাস ও অভিজিৎ দাস নামে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিন জনেরই বাড়ি গোপালনগর থানার বেলেডাঙা এলাকায়। বৃহস্পতিবার তাঁদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
এদিকে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা গোপালনগর বাজার এলাকায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পুলিশি আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা বজায় ছিল।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন