সমকালীন প্রতিবেদন : ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে অভিযোগকারীকেই বিয়ে করতে রাজি হল। আদালতের তত্ত্বাবধানে আদালত চত্বরেই বসলো সেই অভিনব বিয়ের আসর। বুধবার বিকেলে এই বিয়ের আসর বসেছিল বনগাঁ মহকুমা আদালত চত্বরে।
জানা গেছে, গাইঘাটার সুটিয়া এলাকার যুবক সুরাজ মন্ডল এর সঙ্গে বছরখানেক আগে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় নদীয়ার নগরউখড়া এলাকার এক নাবালিকার সঙ্গে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাবালিকার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে ওই যুবক।
যদিও এই ঘটনার কথা নাবালিকার পরিবারের কেউ জানতো না বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। গতবছর অক্টোবর মাস নাগাদ ওই নাবালিকা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে কল্যাণীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর তখনই ওই নাবালিকার পরিবারের লোকেরা তাদের মেয়ের সঙ্গে সুরাজ মন্ডলের এই শারীরিক সম্পর্কের কথা জানতে পারেন।
এই ঘটনার পর গতবছরের ৭ অক্টোবর সুরাজ মন্ডল এর বিরুদ্ধে গাইঘাটা থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুরাজ মন্ডলকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকেই সুরাজের স্থান হয় বনগাঁর সংশোধনাগারে। এতদিন ধরে এই মামলার সওয়াল জবাব চলছিল।
ইতিমধ্যেই ওই নাবালিকার বয়স ১৮ বছর ১ মাস হয়ে যায়। আর এই অবস্থায় দুপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব আনেন। শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব মেনে নেন অভিযুক্ত এবং তার বাবা।
অবশেষে বিচারকের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে জামিন পায় সুরাজ মন্ডল। শর্তে বলা হয় অভিযোগকারী যুবতীকে সসম্মানে বিয়ে করে সুস্থ ভাবে বৈবাহিক জীবন পালন করতে হবে সুরাজকে। আর সেই শর্তেই বুধবার বিকেলে আদালত চত্বরে দুপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে মুসলিম বিবাহ আইন মতে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন