Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভারত–পাক ম্যাচে স্বস্তি ক্রিকেটবিশ্বে, এড়ানো গেল দেড় হাজার কোটির ক্ষতি

 

India-Pak-match

সমকালীন প্রতিবেদন : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হওয়ায় বড়সড় আর্থিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। পাকিস্তান বয়কটের পথ থেকে সরে আসায় আইসিসি-র সম্ভাব্য প্রায় দেড় হাজার কোটির বেশি ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ক্রিকেট মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেয়েছে শুধু আইসিসি নয়, তার সঙ্গে সদস্য দেশগুলিও।

একটি সূত্রের দাবি, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত–পাক ম্যাচ না হলে আইসিসি-র ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়াত প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১,৫৭৫ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা। সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিট বিক্রি এবং বিভিন্ন স্পনসরশিপ মিলিয়েই এই বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। ফলে ম্যাচ বাতিল হলে সদস্য দেশগুলির প্রাপ্য অর্থও উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যেত।

ম্যাচ হওয়ার ঘোষণার প্রভাব পড়েছে অন্য ক্ষেত্রেও। রবিবার ভারত–পাক ম্যাচের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুম্বই–কলম্বো–মুম্বই রুটে বিমানের ভাড়া ১০ হাজার টাকা থেকে লাফিয়ে বেড়ে যায় প্রায় ৬০ হাজার টাকায়। আগ্রহের তীব্রতাই যেন বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে।

সোমবার রাতে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তারা ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। তার আগে রবিবার আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন নকভি। সেই আলোচনাতেই বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও শ্রীলঙ্কার তরফে পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানানো হয় বলে জানা গেছে।

পাকিস্তান সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, বন্ধু দেশগুলির অনুরোধ এবং একাধিক আলোচনার নির্যাস হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। ক্রিকেট সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা এবং খেলাটির প্রসারের কথা ভেবেই ভারত ম্যাচে মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাকিস্তান দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে খেলোয়াড়োচিত আচরণ বজায় রাখার বার্তাও দেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক জটিল পরিস্থিতিতে আইসিসি ও পিসিবি-র ইতিবাচক ভূমিকায় তারা কৃতজ্ঞ। বিসিবি কর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “এই ম্যাচ হলে ক্রিকেটের গোটা বাস্তুতন্ত্রই উপকৃত হবে।”

পাকিস্তানের বিদ্রোহের মূল কারণ ছিল বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের ইস্যু। তবে আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনও আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি নেওয়া হবে না। বরং ২০৩১ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশে একটি আইসিসি প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান বয়কট তুলে নিয়েছে, বাংলাদেশও শাস্তি এড়িয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় আইসিসি-র সিদ্ধান্তই শেষ কথা– এমন ইঙ্গিত দিয়েই বোর্ড সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা জানান, শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটটাই সবার উপরে।‌‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন