সমকালীন প্রতিবেদন : দক্ষিণের রাজ্য কেরলের নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাবে মঙ্গলবার অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। নতুন ঠিকানা সেবাতীর্থ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় কেন্দ্র। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি হল।
এর আগে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দু’দফায় কেরল বিধানসভা-য় রাজ্যের নাম বদলের প্রস্তাব পাশ হয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২৪ জুন সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, মালয়ালম ভাষায় রাজ্যের নাম ‘কেরলম’, তাই সংবিধানের প্রথম তফসিলেও সেই নাম স্বীকৃতি পাক। প্রস্তাবে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের পরও সরকারি নথিতে ‘কেরল’ নামটি বহাল রয়েছে, যা স্থানীয় ভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ফলে নামবদলের পথে অন্যতম বড় জট কাটল। এখন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটি মতামতের জন্য রাজ্য বিধানসভায় পাঠাবেন। বিধানসভা মত জানালে রাষ্ট্রপতির সুপারিশ সাপেক্ষে কেন্দ্র সরকার সংসদে বিল পেশ করবে। সংসদে পাশ ও রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যকর হবে নাম পরিবর্তন।
প্রসঙ্গত, পিনারাই বিজয়ন নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের তরফে আগেই আর্জি জানানো হয়েছিল, সংবিধানের অষ্টম তফসিল-সহ সব ভাষায় রাজ্যের নাম ‘কেরলম’ করা হোক। প্রথম দফার প্রস্তাব ‘পদ্ধতিগত ত্রুটি’র কারণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ফেরত পাঠালেও পরে সংশোধিত প্রস্তাব আবার পাঠানো হয়। এ বার সেই প্রস্তাবেই সম্মতি দিল কেন্দ্র।
ঘটনাচক্রে, বিধানসভা ভোটের আগে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেই কেরল বিজেপি সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের প্রস্তাব খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। পাশাপাশি রেল, ডাক ও গোয়েন্দা দফতরের মতামত নেওয়া হয়। সবুজ সংকেত মিললে সংসদে বিল পেশ করা হয় এবং উভয় কক্ষের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সিলমোহরেই সম্পূর্ণ হয় প্রক্রিয়া।
এদিকে ভোটমুখী আর এক রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ-ও ২০১৮ সালে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তৃণমূল সরকারের তরফে রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার আর্জি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। ফলে কেরলের নামবদলের সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন