সমকালীন প্রতিবেদন : বেআইনিভাবে গৃহ শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত সরকারি স্কুলের শিক্ষকেরা তাদের অন্যায় কাজকে টিকিয়ে রাখতে এবার অভিভাবকদের হাতিয়ার করলেন। সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা অতিরিক্ত বিদ্যালয় পরিদর্শক এর কাছে স্মারকলিপি জমা পড়ার পরদিনই পড়ুয়াদের অভিভাবকদের একাংশ গৃহ শিক্ষকতায় যুক্ত সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের পক্ষে আবেদন জমা দিলেন।
সরকারি স্কুলে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোনভাবেই স্কুল গণ্ডির বাইরে গৃহ শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এই অন্যায় কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে- এই মর্মে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। কিন্তু সরকারি সেই নির্দেশিকাকে উপেক্ষা করেই এখনো মোটা টাকার বিনিময়ে রমরমিয়ে গৃহ শিক্ষকতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন একশ্রেণীর অসাধু স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকা।
রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের ব্যবস্থা অনুযায়ী এখন প্রতিটি শ্রেণীতেই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রজেক্ট এর একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। অভিযোগ, এটাকেই হাতিয়ার করছেন সরকারি স্কুলের একশ্রেণীর অসাধু শিক্ষক–শিক্ষিকা। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা তাদের কাছে প্রাইভেট টিউশন না নিলে প্রজেক্টে তাদের উপযুক্ত নম্বর দেওয়া হবে না– এইরকমভাবে একপ্রকার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে তাদের কাছে ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট টিউশন পড়তে বাধ্য করানো হয় বলে অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ।
আর এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বহুদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটরস অ্যাসোসিয়েশন। রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের আধিকারিকদের পাশাপাশি তাঁরা আদালতেরও দারস্থ হয়েছেন। আদালতের পাশাপাশি রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর এ ব্যাপারে কড়া নির্দেশিকা জারি করে ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে, সরকারি স্কুলে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা প্রাইভেট টিউশনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যেই প্রাইভেট টিউশনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন রাজ্যের সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের বহু অসাধু শিক্ষক-শিক্ষিকা।
সোমবার ফের এই অসাধু শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনের বাগদা শাখার পক্ষ থেকে বাগদা এবং বনগাঁ এডিআই অফিসে স্মারকলিপি জমা দেন ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটরস অ্যাসোসিয়েশন। সেখানে বাগদা এবং বনগাঁ অঞ্চলে গৃহ শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের একটি তালিকাও জমা দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী সেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু করে স্কুল শিক্ষা দপ্তর।
আর এই ঘটনার পর ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই আজ, মঙ্গলবার বাগদা এলাকা থেকে মহিলা অভিভাবকদের একটি দল বনগাঁ এডিআই অফিসে এসে একটি আবেদনপত্র জমা দেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেন, বাগদার বেয়াড়া হাই স্কুলের যে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গৃহ শিক্ষকতা করার অভিযোগ উঠেছে, সেই শিক্ষকেরা এলাকার দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বিনা পারিশ্রমিকে প্রাইভেট টিউশন দেন। যদিও এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে অভিভাবিকারা ক্যামেরার সামনে কোনও উত্তর না দিয়ে একপ্রকার পালিয়ে যান।
যদিও অভিভাবকদের যুক্তি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করে ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটরস অ্যাসোসিয়েশনের বাগদা শাখার এক সদস্য অশোক ভৌমিক জানান, 'অভিযুক্ত শিক্ষকেরা নিজেদের বাঁচাতে অভিভাবকদের ঢাল করছেন। তারা যাতে কোনরকম আইনি জটিলতায় না পড়েন তার জন্য অভিভাবকদের একটি অংশকে ভুল পথে পরিচালিত করে তাদেরকে স্কুল শিক্ষা দপ্তরে আবেদন জমা দিতে বাধ্য করছেন। তিনি দাবি করেন, যদি ওই শিক্ষকেরা বিনা পারিশ্রমিকে দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট টিউশন দেন, তাহলে তাঁরা এই ধরনের ছাত্রছাত্রীদের ওই শিক্ষকদের কাছে পাঠাবেন। আর এই দাবি ওই শিক্ষকেরা মেনে নিলে তাদের সাঁধুবাদ জানাবো।'
এ ব্যাপারে বনগাঁর এডিআই নারায়ণ কবিরাজ জানান, সরকারি স্কুলের শিক্ষকেরা যদি বেআইনিভাবে গৃহ শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি নিয়মে বলা আছে, স্কুলের পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় উন্নয়নের জন্য রেমিডিয়াল ক্লাসের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। কোনভাবেই স্কুল গণ্ডির বাইরে প্রাইভেট টিউশন করা যাবে না। অভিযুক্ত শিক্ষকেরা এরপরেও যদি গৃহ শিক্ষকতা চালিয়ে যান, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন