Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এসআইআরে ডোমিসাইল শংসাপত্রে ছাড়, শেষ মুহূর্তে অবস্থান বদল নির্বাচন কমিশনের

 

Domicile-certificate

সমকালীন প্রতিবেদন : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ‌অর্থাৎ এসআইআর-এ স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বা ডোমিসাইল সার্টিফিকেটকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলে জানাল নির্বাচন কমিশন। এই মর্মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। শুনানির শেষদিনে এসে এই সিদ্ধান্ত জানানোয় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর শুনানিতে ‘পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট’ গ্রহণ করা হবে না। কিন্তু শনিবার পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জারি হওয়া এসআইআর (পশ্চিমবঙ্গ) নির্দেশিকা অনুযায়ী এই শংসাপত্র বৈধ যোগ্যতার নথির অন্তর্ভুক্ত। তবে শর্তসাপেক্ষে– এই সার্টিফিকেট অবশ্যই জেলা শাসক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমা শাসক বা কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টরের দ্বারা ইস্যু হতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তা জারি হতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের ১৯৯৯ সালের ২ নভেম্বরের নির্দেশিকা ও তার পরবর্তী সংশোধনী অনুযায়ী যে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়, শুধুমাত্র সেগুলিই গ্রহণযোগ্য হবে। প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী ভোটার তালিকার দায়িত্বে থাকা ইআরও এবং এইআরও-দের এই নির্দেশ কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও রকম ব্যতিক্রম বা শিথিলতার সুযোগ থাকছে না বলেও স্পষ্ট করেছে কমিশন।

প্রসঙ্গত, এসআইআর শুরুর সময় শুনানির জন্য ১১টি নথির তালিকায় ডোমিসাইল সার্টিফিকেট থাকলেও পরে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা বাতিল করা হয়েছিল। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, বর্তমানে জেলা শাসকের পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলা শাসক ও এসডিও-রাও এই সার্টিফিকেট দেন। কিন্তু কমিশনের অভিযোগ ছিল, কিছু ক্ষেত্রে পুরসভা থেকেও এমন শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে, যা সরকারি নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শেষ পর্যন্ত ৬ ফেব্রুয়ারির বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন অবস্থান স্পষ্ট করে।

৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানির সময়সীমা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটে ছাড় দেওয়ায় সেই সময় বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশও পিছোতে পারে। উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়েছে কমিশন। বাংলায় সময় বাড়বে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন সিইও মনোজ আগরওয়াল। ডিইও-দের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন। এমনকী, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও ওঠে। শেষ পর্যন্ত কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন