Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাগদায় দুটি পাকা সেতুর শিলান্যাস করলেন মমতা ঠাকুর

 

Bridge-foundation-stone-laying

সমকালীন প্রতিবেদন : যাতায়াতের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে অবশেষে বাগদায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলো। রবিবার রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর এবং বাগদার বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুরের উপস্থিতিতে এই প্রকল্প দুটির আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস করা হয়। 

সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই সেতু দুটি নির্মিত হবে। সাংসদ মমতা ঠাকুরের হাত ধরে এদিন রাঘবপুর ও বাগী– এই দুই এলাকায় নতুন সেতুর কাজের সূচনা হয়। এর মধ্যে সিন্দ্রানী গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঘবপুর সেতুর জন্য ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা এবং আষাঢ়ু গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগী সেতুর জন্য ৪০ লক্ষ টাকা অমুমোদিত হয়েছে।

মমতা ঠাকুর এদিন নারকেল ফাটিয়ে কাজের সূচনা করার পর এক সভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর দাবি জানাচ্ছিলেন। আমি ফাঁপা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করি না, কাজ করে দেখাতে চাই। আজ অর্থ বরাদ্দ করে কাজ শুরু হলো। সেতুর নির্মাণ শেষ হলে আমি নিজে এসে ফিতে কেটে তা উদ্বোধন করব।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর বলেন, “উপনির্বাচনের সময় আমি যে কথা দিয়েছিলাম, দেড় বছরের মধ্যেই তা বাস্তবায়নের পথে এগোলাম। মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।” 

রাঘবপুর গ্রামের কয়েকশো বাসিন্দার কাছে এই সেতুটি কার্যত জীবনরেখা। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে হাসপাতাল– সব জায়গাতেই যাতায়াতের জন্য পুরনো ভাঙাচোরা বাঁশের সাঁকোটিই একমাত্র ভরসা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে ভগ্নদশা সাঁকোর কারণে যাতায়াতে চরম সমস্যা হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, দুচাকা ছাড়া অন্য কোনও গাড়ি এই এলাকার গ্রামগুলিতে ঢুকতে পারে না। 

এর আগে সেতু ভেঙে পড়ে বেশ কয়েকজন জখমও হয়েছেন। তবে এদিন খুশির আবহের মধ্যেই কিছুটা সুর চড়িয়েছেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এর আগে প্রাক্তন বিধায়ক উপেন বিশ্বাস নির্মানের উদ্দেশ্যে তাঁর বিধায়ক তহবিল থেকে ৩২ লক্ষ টাকা অনুমোদন করে শিলান্যাস করলেও পরবর্তীকালে কাজ এগোয়নি। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বাসিন্দারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবারও যদি শুধু শিলান্যাসেই কাজ থমকে যায়, তবে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। 

তবে বর্তমান সাংসদ ও বিধায়কের তৎপরতায় এবার কাজ সম্পূর্ণ হবে বলেই আশাবাদী এলাকার বড় অংশের মানুষের। এই দুই পাকা সেতু নির্মিত হলে বাগী ও রাঘবপুর এলাকা সহ আশপাশ এলাকার হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বন্ধ হয়ে যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে। বিশেষ করে রোগী পরিবহণ এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেক উপকার হবে বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ। 




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন