সমকালীন প্রতিবেদন : ভাগ্যের পরিহাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। তবে সেই বদল যে ইডেনের গ্যালারিতে কোনও প্রভাব ফেলবে না, তা প্রমাণ হয়ে গেল শনিবার। প্রায় ৪২ হাজার দর্শক ভরিয়ে দিলেন ইডেন গার্ডেন্স। বাংলাদেশ না থাকায় দর্শকখরার আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে তার ছায়াও দেখা গেল না।
কলকাতায় স্কটল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী ইংল্যান্ড। দুই দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে কলকাতার যোগ বহু পুরনো। ১৮৬১ সালে রাগবির ঐতিহাসিক ‘ক্যালকাটা কাপ’-এর সূচনা হয়েছিল এই শহরের নামেই। দেড়শো বছরের বেশি সময় পর সেই শহরেই দুই প্রতিবেশী দেশের ক্রিকেট দ্বৈরথ উপভোগ করলেন হাজার হাজার দর্শক।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে স্কটল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার। ইতালির বিরুদ্ধে তাদের পরের ম্যাচে সেই সংখ্যা নেমে আসে সাত হাজারেরও কমে। ফলে শনিবারের ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশা খুব বেশি ছিল না। কিন্তু ভ্যালেন্টাইনস ডে-র বিকেলে চিত্র একেবারে বদলে যায়। ম্যাচ শুরুর আধ ঘণ্টার মধ্যেই গ্যালারির প্রায় অর্ধেক পূর্ণ হয়ে যায়। ছুটির দিন হওয়ায় শহর ও মফস্বল থেকে বহু দর্শক মাঠে আসেন।
এই ভিড়ের নেপথ্যে একাধিক কারণ ছিল। ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার ফিল সল্ট-এর উপস্থিতি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। দু’বছর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর জার্সিতে খেলার সুবাদে কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অনেকেই প্রিয় ক্রিকেটারকে মাঠে দেখতে হাজির হন।
এছাড়া, সূচি অনুযায়ী এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। অনেকে আগেভাগেই টিকিট কেটে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড সুযোগ পেলেও, সেই টিকিটের বেশিরভাগই অফেরতযোগ্য ছিল। ফলে অনেক দর্শকই পরিকল্পনা বদলাননি। বিকেলের সময়সূচিও বাড়তি সুবিধা দেয়। মফস্বল থেকে আসা দর্শকদের ফেরার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হয়নি।
সব মিলিয়ে শনিবার ইডেনে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। বাংলাদেশ না থাকলেও দর্শকদের আবেগ ও উপস্থিতি বুঝিয়ে দিল, বড় ম্যাচের আবেদন আলাদা। ক্রিকেটের নন্দনকাননে স্কটল্যান্ড–ইংল্যান্ড লড়াই শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, দর্শকসমাগমের দিক থেকেও স্মরণীয় হয়ে রইল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন