Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শিলিগুড়ি–বারাণসী রুটে ৩ ঘন্টার যাত্রা বাংলার প্রথম বুলেট ট্রেনে

 

Bengal-first-bullet-train

সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে দেশের রেল পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে বড়সড় বিনিয়োগের রূপরেখা তুলে ধরল কেন্দ্র। বাজেট ভাষণে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেন, দেশে সাতটি নতুন হাই-স্পিড রেল করিডর গড়ে তোলা হবে। এই তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে শিলিগুড়ি–বারাণসী রুট। কেন্দ্রের মতে, এই করিডর চালু হলে উত্তর ও পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগে এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে এবং শিলিগুড়ি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বাজেট ঘোষণার পর সোমবার বিষয়টি স্পষ্ট করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, বাংলায় প্রথম বুলেট ট্রেন চলবে শিলিগুড়ি–বারাণসী রুটেই। এই হাই-স্পিড ট্রেন বারাণসী থেকে পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছাবে। রেলমন্ত্রীর কথায়, ভবিষ্যতে এই করিডর গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি যাত্রায় সময় লাগবে প্রায় ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট।

চলতি বাজেটে রেল মন্ত্রকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবর্ষের তুলনায় ১০.৮ শতাংশ বেশি। রেলের মোট ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার পৌঁছেছে ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩০ কোটি টাকায়, যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই বিপুল বরাদ্দের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। রেলমন্ত্রী জানান, গত বছরের তুলনায় রাজ্যের বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।

বাজেটে আরও ঘোষণা করা হয়েছে একটি নতুন ফ্রেট করিডরের, যা পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনিকে গুজরাটের সুরাটের সঙ্গে যুক্ত করবে। রেলমন্ত্রী জানান, এই পণ্য পরিবহণ করিডর ডানকুনির সঙ্গে গুজরাটের পাশাপাশি ছত্তিসগড়, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রকেও সংযুক্ত করবে। সরকারের মতে, এই করিডর শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে।

অর্থমন্ত্রী হাই-স্পিড রেল করিডরগুলিকে ‘গ্রোথ কানেক্টর’ বা অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সেতু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিলিগুড়ি–বারাণসী ছাড়াও প্রস্তাবিত করিডরের তালিকায় রয়েছে মুম্বই–পুনে, পুনে–হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ–চেন্নাই, চেন্নাই–বেঙ্গালুরু এবং দিল্লি–বারাণসী।

এদিকে কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ নিয়েও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রেলমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত ৪০ বছরে কলকাতা মেট্রোর বিস্তার হয়েছিল ২৭ কিলোমিটার, অথচ ২০১৪ সালের পর গত ১১ বছরে তা বেড়েছে ৪৫ কিলোমিটার। চিংড়িঘাটায় কাজের অনুমতি না মেলায় উন্নয়নের গতি ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বাজেটে কলকাতা মেট্রোর নিউ গড়িয়া–বিমানবন্দর অরেঞ্জ লাইনের জন্য চলতি অর্থবর্ষে বরাদ্দ হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা, যা গত বছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় কম। বরাদ্দ কমায় কাজের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, জোকা–এসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনের জন্য বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। তবে জমি সমস্যা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এই রুটে সম্পূর্ণ পরিষেবা কবে চালু হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন