Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

পিকনিকে গিয়ে বনগাঁর কলেজ ছাত্রের রহস্যমৃত্যু: বন্ধুর বয়ানে অসঙ্গতি

 

Mysterious-death-of-student

সমকালীন প্রতিবেদন : শীতের আমেজে বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না কলেজ পড়ুয়ার। বনগাঁ থানার বকশি পল্লী এলাকার বাসিন্দা, বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র রনি রাহার (১৯) রহস্য মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বুধবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো এলাকায়। সুন্দরপুর এলাকায় পিকনিক করতে গিয়ে পুকুরের জলে ডুবে রনির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি বন্ধুদের। তবে মৃতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং বন্ধুদের বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় এটিকে শুধুমাত্র দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে পারছে না পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রনি তার বেশ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সুন্দরপুর এলাকায় পিকনিক করতে গিয়েছিলেন। দীর্ঘক্ষণ আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পর বিকেলের দিকে বন্ধুদের পক্ষ থেকে রনির বাড়িতে খবর দেওয়া হয় যে, বাসন ধোয়ার সময় পা পিছলে পুকুরে পড়ে গিয়েছেন তিনি। বন্ধুদের দাবি, তাঁরা রনিকে জল থেকে উদ্ধার করে দ্রুত বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে দেহ দেখার পর থেকেই রনির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। রনির এক দিদির অভিযোগ, ভাইয়ের কপালে গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং পায়ের বুড়ো আঙুলে ঝলসানোর মতো দাগ দেখা গিয়েছে। পরিবারের প্রশ্ন, পুকুরে পড়ে গেলে কপালে ফাটা দাগ বা ঝলসানোর চিহ্ন কীভাবে আসা সম্ভব?

রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে বন্ধুদের শুকনো পোশাক দেখে। পরিবারের বক্তব্য, রনির বন্ধুদের দাবি অনুযায়ী যদি তাঁরা জলে নেমে রনিকে উদ্ধার করে থাকে, তবে অন্তত কয়েকজনের পোশাক ভেজা থাকার কথা। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কোনো বন্ধুর পোশাকই ভেজা ছিল না। রনি সাঁতার জানতেন না। শান্ত স্বভাবের ওই যুবক কেন একা পুকুরে নামবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

রনির এক আত্মীয়ের কথায়, "বন্ধুরা যা বলছে তাতে কোনো মিল নেই। আমরা চাই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য সামনে আনুক।" এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বকশি পল্লী এলাকায় শোকের ছায়া যেমন নেমেছে, তেমনই ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।

বনগাঁ থানা সূত্রে খবর, পুলিশ ইতিমিধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, "ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পেলেই বোঝা যাবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু। বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।" আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে শোকাতুর পরিবার ও এলাকাবাসী। একটি সাধারণ পিকনিক কীভাবে মর্মান্তিক মৃত্যুর রূপ নিল, তা এখন খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন