Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তারেক রহমান-এর শপথে শুরু নতুন অধ্যায়, ২০ বছর পর ক্ষমতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

 

Bangladesh-Nationalist-Party

সমকালীন প্রতিবেদন : দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে নতুন সরকারের সূচনা হল। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর মধ্য দিয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ পেল এক পুরুষ প্রধানমন্ত্রী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। প্রায় ২০ বছর পর ফের ক্ষমতায় ফিরল দলটি। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।

নতুন মন্ত্রিসভায় মোট সদস্য ৫০ জন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় রয়েছেন তিন জন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৭ জনই নতুন মুখ। প্রতিমন্ত্রীদের ২৪ জনই প্রথমবার দায়িত্ব পেলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি শপথ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। পৃথক ভাবে তাঁদের সকলকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সংসদের সদস্য নন এমন ব্যক্তিকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। তবে সেই সংখ্যা মোট সদস্যের এক-দশমাংশের বেশি হতে পারে না। বিশেষজ্ঞ বা নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এই টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় আনা হয়।

শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ উড়ানে ঢাকা পৌঁছান লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সচিব মহম্মদ নজরুল ইসলাম এবং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লা। সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি।

নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। তাঁর ভাষণের পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় অন্তর্বর্তী শাসনের অধ্যায়। এর আগে সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ভিড় জমান দক্ষিণ প্লাজায়। নিরাপত্তা ছিল কড়া। এবারের নির্বাচনে জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাত জন মহিলা সাংসদ। তাঁদের মধ্যে ছ’জনই বিএনপির প্রার্থী। গত তিনটি সাধারণ নির্বাচনে যথাক্রমে ১৮, ২৩ ও ১৯ জন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন‌। সেই তুলনায় এবার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি হওয়ার কথা। নতুন সরকারের হাতে এখন দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশের দায়িত্ব।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন