Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

বিশ্বকাপে ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ সরানোর প্রভাব কতটা পড়বে ভারতের আয়ে?

 

T20-World-Cup

সমকালীন প্রতিবেদন : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ক্রিকেটমহলে। আইসিসি ইতিমধ্যেই নতুন সূচি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে খবর, আর সেই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থার চেয়ারম্যান জয় শাহ। বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ইউনুস সরকারের পরামর্শ ও দেশের নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণেই তারা ভারতে এসে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয়। 

এই সিদ্ধান্তের কথা আইসিসি-কে চিঠি দিয়েও জানিয়েছে বিসিবি। ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন– বাংলাদেশের ম্যাচগুলি যদি সত্যিই ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তা হলে ভারতের বা বিসিসিআই-এর আর্থিক ক্ষতি কতটা হতে পারে? সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ ছিল ভারতের মাটিতে। 

এর মধ্যে তিনটি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এবং একটি মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইটালি ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের, আর নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচটি হওয়ার কথা ওয়াংখেড়েতে। এই চার ম্যাচ মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি টিকিট বিক্রির সম্ভাবনা ছিল। ইডেনে এক একটি ম্যাচে প্রায় ৬৩ হাজার এবং ওয়াংখেড়েতে প্রায় ৩৩ হাজার দর্শক ধরে।

টিকিটের দাম ১০০ থেকে ৩০০ টাকা ধরা হলেও, বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের মালিকানা থাকে আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশনের হাতে। ফলে আয়োজক দেশ হিসেবে বিসিসিআই টিকিট বিক্রির পুরো টাকা পায় না। এই কারণে কেবল টিকিট বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলেই যে বিসিসিআই বিপুল ক্ষতির মুখে পড়বে, এমনটা নয়।

তবে সমস্যার জায়গা অন্যত্র। ম্যাচ-ডে সারপ্লাস, স্থানীয় স্পনসরশিপ এবং হসপিটালিটি বা ভিআইপি বক্স বিক্রি– এই তিনটি ক্ষেত্রেই বড় ধাক্কা লাগতে পারে ভারতীয় বোর্ডের। হিসাব অনুযায়ী, যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলি পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কলকাতা ও মুম্বইয়ে ওই দিনগুলিতে কোনও বিকল্প ম্যাচ না দেওয়া হয়, তা হলে সম্ভাব্য ক্ষতির অঙ্ক ৭ থেকে ৩০ কোটি টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। এই হিসাব করা হয়েছে ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি এবং গড় টিকিট মূল্য ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা ধরে।

তবে ক্ষতি অনেকটাই কমে যেতে পারে, যদি আইসিসি ওই ভেন্যুগুলিতে অন্য ম্যাচ বসায়। সে ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রি এবং স্পনসরশিপ থেকে কিছুটা হলেও আয় আসবে। আরও একটি সম্ভাব্য পথ হল ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ভেন্যু বা তারিখ অদলবদল করা। যদি আইসিসি ভারতের ম্যাচের সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখে, তা হলে বিসিসিআইয়ের ক্ষতি হবে নামমাত্র– মূলত লজিস্টিকস ও নতুন পরিকল্পনার খরচটুকুই।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে আর্থিক প্রভাব পুরোপুরি নির্ভর করবে আইসিসি-র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর। নতুন সূচিতে ভেন্যু ও ম্যাচ বণ্টন কী ভাবে হয়, সেটাই ঠিক করে দেবে ভারতের লাভ-ক্ষতির অঙ্ক।‌‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন