Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

রেকর্ড ভেঙে কাঁপছে তিলোত্তমা, ১০ ডিগ্রির ঘরে কলকাতার পারদ

 

Cold-weather

সমকালীন প্রতিবেদন : চলতি মরশুমে শীতের দাপট যেন রীতিমতো ঝোড়ো ইনিংস খেলছে বঙ্গদেশে। গত বছরের শেষ দিন ছিল শহরের সবচেয়ে শীতল দিন। তবে সেই রেকর্ড ভেঙে সোমবার রাতে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১০ ডিগ্রির ঘরে। আলিপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মরশুমে শহরের শীতলতম দিন হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। শহর জুড়ে ঘন কুয়াশার দাপটে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে বিমান, ট্রেন ও সড়ক পরিবহণ।

নতুন বছরের শুরুতে কলকাতার তাপমাত্রা নেমেছিল ১১ ডিগ্রিতে। এরপর কয়েকদিন পারদ সামান্য ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সোমবার একধাক্কায় প্রায় দুই ডিগ্রি কমে যায় তাপমাত্রা। শহরের পাশাপাশি শহরতলিতেও শীতের তীব্রতা স্পষ্ট। ব্যারাকপুরে তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৫ ডিগ্রিতে, সল্টলেকে ৯ ডিগ্রি, কল্যাণীতে ৮ ডিগ্রি এবং দমদমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি কলকাতার তাপমাত্রা নেমেছিল ৯ ডিগ্রিতে। তার পর থেকে প্রতি বছর পৌষ মাসে পারদ ১১ ডিগ্রির আশপাশেই ঘোরাফেরা করছিল। বহু বছর পর চলতি জানুয়ারিতে ফের ১১ ডিগ্রির নিচে নামল কলকাতার তাপমাত্রা। মাত্র ৭২ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি কমে যাওয়াকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

এই শীতের নেপথ্যে রয়েছে উত্তর-পশ্চিম ভারতের দিক থেকে বয়ে আসা শুষ্ক ও শীতল উত্তুরে হাওয়া। ভোরে ঘন কুয়াশা, বেলা বাড়লে মেঘলা আকাশ এবং জোরালো ঠান্ডা বাতাস মিলিয়ে শীতের প্রভাব আরও বেড়েছে। কুয়াশার কারণে একহাত দূরের জিনিসও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না, ফলে ট্রেন ও বাস চলাচলও হচ্ছে ধীরগতিতে।

শুধু কলকাতা নয়, উত্তরবঙ্গেও শীতের দাপট চরমে। দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ ও পশ্চিম বর্ধমান-সহ রাজ্যের আটটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। মানেভঞ্জন, সান্দাকফু, ঘুমের মতো উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে, উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি হয়েছে। মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং সাগরদ্বীপ, দিঘা ও ডায়মন্ড হারবার-সহ উপকূল এলাকাতেও কুয়াশার দাপট বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। শীতের এই তীব্রতায় জনজীবন কার্যত জবুথবু, লেপ-কম্বল ছাড়া বাইরে বেরনো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেই মত সাধারণ মানুষের।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন