Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬

সাত বছর পর ঘরওয়াপসি, তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরলেন মৌসম নুর

 

Return-to-Cong

সমকালীন প্রতিবেদন : ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ঠিক সাত বছর পর সেই জানুয়ারিতেই ফের পুরনো দলে ফিরে এলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নুর। শনিবার বিকেলে দিল্লির ২৪ নম্বর আকবর রোডে কংগ্রেস দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘরওয়াপসিকে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ঘটনা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

এই মুহূর্তে মৌসম এখনও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই তাঁর সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই তিনি কংগ্রেসে ফিরে এলেন। দিল্লিতে তাঁর যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ, মালদহ দক্ষিণের সাংসদ তথা ভাই ঈশা খান চৌধুরী-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। 

সাংবাদিক বৈঠকে মৌসম জানান, তিনি ইতিমধ্যেই তৃণমূল চেয়ারপা‌র্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন এবং সোমবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেবেন। কেন এই প্রত্যাবর্তন– তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মৌসম বলেন, “মালদহে গণিখান চৌধুরীর ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতেই কংগ্রেসে ফিরেছি। পারিবারিক ভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, কংগ্রেসেই তাঁর রাজনৈতিক শিকড় এবং সেই আদর্শে ফিরে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

রাজনৈতিক মহলে অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যসভায় পুনরায় মনোনয়ন না পাওয়ার আশঙ্কাতেই কি মৌসমের এই সিদ্ধান্ত? রাজনৈতিক সূত্রের মতে, বিষয়টি ততটা সরল নয়। সংখ্যালঘু নেত্রী হিসেবে মৌসমকে রাজ্যসভায় ফের মনোনয়ন না দেওয়ার ঝুঁকি তৃণমূল নিত বলেই মনে করছেন না অনেকেই। তবে এটাও সত্য, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলে তিনি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছিলেন না। দলীয় স্তরে বনিবনার অভাবই তাঁর কংগ্রেসে ফেরার পথ প্রশস্ত করেছে বলে মত অনেকের।

মৌসমের ফিরে আসাকে ঘিরে কংগ্রেস শিবিরে উৎসাহ স্পষ্ট। তাঁর ভাই ঈশা খান চৌধুরী বলেন, “ওঁর রক্তে কংগ্রেস রয়েছে। অন্য দলে যাওয়ার ফলে পরিবারেও বিভাজন তৈরি হয়েছিল। আজ সেই বিভাজনের অবসান হল।” কংগ্রেস নেতৃত্বও এই প্রত্যাবর্তনকে সংগঠন মজবুত করার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।

বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘটনা তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এর আগেই ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এবার মালদহেও এক শক্তিশালী সংখ্যালঘু নেত্রীর প্রস্থান শাসকদলের অন্দরে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অতীতে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের সংগঠন দুর্বল ছিল। সংখ্যালঘু ভোটের সমর্থনেই সেখানে সাফল্য এসেছিল।

মৌসম এর আগে দু’বার মালদহ দক্ষিণ থেকে কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ ছিলেন। যুব কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। তাঁকে তৃণমূলে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী– যিনি তখন তৃণমূলেই ছিলেন। কিন্তু সময় বদলেছে, রাজনৈতিক সমীকরণও বদলেছে।

তৃণমূল নিয়ে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য না করলেও মৌসম স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর চোখে রাজ্য রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী শক্তি বিজেপিই। বিধানসভা ভোটের আগে এই অবস্থান কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে এটুকু নিশ্চিত, মৌসম নুরের ঘরওয়াপসি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন