সমকালীন প্রতিবেদন : হাড়কাঁপানো শীতে মাথার ওপর থেকে ছাদটুকুও কেড়ে নিল আগুন। বৃহস্পতিবার সকালে বনগাঁ পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকাপাড়া এলাকায় এক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে খাক হয়ে গেল বাবলু ঘোষের ঘর। আগুনের গ্রাসে শুধু বাড়িটিই নয়, ভস্মীভূত হয়েছে সারা জীবনের সঞ্চিত অর্থ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, এমনকি এই কনকনে ঠান্ডায় সম্বল একমাত্র কম্বলটিও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাপাড়ার বাসিন্দা বাবলু ঘোষ তাঁর মেয়ে পিয়াসাকে নিয়ে একটি এক চিলতে টিনের ঘরে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই তাঁদের বাড়ির টিনের চালে আগুন জ্বলতে দেখেন প্রতিবেশীরা। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন বিধ্বংসী রূপ নেয়।
আতঙ্কিত পরিবার ও প্রতিবেশীরা তড়িঘড়ি জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর দেওয়া হয় বনগাঁ থানা এবং দমকল বিভাগে। দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও, ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে। দমকল কর্মীদের প্রাথমিক অনুমান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
বাবলু বাবুর মেয়ে পিয়াসা ঘোষ জানান, সকালে হঠাতই একটি বিকট শব্দ শুনে তিনি ঘরের বাইরে ছুটে আসেন। দেখেন দাউ দাউ করে জ্বলছে তাঁদের ঘর। ঘরের ভেতরে আটকে ছিলেন তাঁর অসুস্থ বাবা। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কোনোক্রমে বাবাকে ঘর থেকে বের করে আনেন পিয়াসা। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর নিজের হাতের বেশ কিছুটা অংশ আগুনে ঝলসে গিয়েছে।
কান্নায় ভেঙে পড়ে পিয়াসা বলেন, "বাবাকে তো বাঁচাতে পারলাম, কিন্তু আর কিছুই রক্ষা করতে পারলাম না। সারাজীবনের উপার্জিত সামান্য টাকা, জরুরি সব কাগজপত্র, এমনকি এই শীতে গায়ে দেওয়ার কম্বলটুকুও বের করতে পারিনি। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল।" বর্তমানে কার্যত নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বাবলু বাবুর পরিবার। প্রতিবেশীরাও এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ এবং পিয়াসার সাহসিকতার প্রশংসা করলেও সর্বস্ব হারানো এই পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত সকলে।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত সশরীরে উপস্থিত হন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুরজিৎ দাস। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জানান, "খবর পাওয়া মাত্রই আমি এখানে আসি। পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের সব রকম সাহায্য করার চেষ্টা করছি এবং বিষয়টি বনগাঁ পুরসভার প্রধানকেও জানিয়েছি যাতে তাঁরা সরকারি সহায়তা পান।"








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন