Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, মৃত্যু উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের

Plane-crash

সমকালীন প্রতিবেদন : বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের পুণে জেলার বারামতীর কাছে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান অজিত পাওয়ার। এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বিমানে থাকা দুই পাইলট, এক কেবিন ক্রু এবং অজিত পাওয়ারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিক ও পরিচারক-সহ মোট চার জনের। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, খারাপ আবহাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে যান্ত্রিক গোলযোগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ঘটনার পর থেকেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের নিরাপত্তা ও অতীত রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে মুম্বই থেকে বারামতীতে একটি জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। তাঁর যাত্রার জন্য ভিএসআর ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল অত্যাধুনিক Learjet 45 XR মডেলের একটি বম্বার্ডিয়ার বিমান। মাঝারি আকারের এই বিলাসবহুল ডবল ইঞ্জিন বিমানে নয়টি আসন রয়েছে এবং এটি সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। ঘণ্টায় প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার গতিবেগে চলতে পারে এই বিমান।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকালে বারামতী অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ছিল। পাহাড়ঘেরা এলাকায় অবস্থিত ‘টেবিল টপ’ রানওয়েতে অবতরণের সময় প্রথমবার নিয়ন্ত্রণ হারান পাইলট। দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টাতেও ব্যর্থ হয়ে রানওয়ের কাছেই বিমানটি গিয়ে আছড়ে পড়ে পাশের একটি খাদে। সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

বিমানে মোট পাঁচ জন ছিলেন‌। অজিত পাওয়ার ছাড়াও ছিলেন তাঁর দেহরক্ষী বিদীপ যাদব, কেবিন ক্রু পিঙ্কি মালি এবং দুই পাইলট সুমিত কাপুর ও সম্ভাবি পাঠক। উড়ানের সময় জরুরি অবতরণের অনুমতিও চেয়েছিলেন পাইলট। অবতরণের কিছুক্ষণ আগে বিমানটি আচমকাই রেডার থেকে হারিয়ে যায়। পরে মে ডে কল করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই Learjet 45 XR মডেলের বিমানটি আগেও দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভারী বৃষ্টির কারণে রানওয়ে থেকে পিছলে গিয়ে বিমানটি দু’ভাগে ভেঙে পড়ে এবং তাতে আগুন ধরে যায়। যদিও সে বার সকল আরোহী প্রাণে বেঁচে যান, তবে এক সহ-পাইলটকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মডেলের বিমানে অতীতে একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছিল। মাঝ আকাশে উইন্ডশিল্ডে চিড় ধরার মতো ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। এই কারণেই একসময় Learjet 45-এর ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে নকশায় পরিবর্তন আনার পর আবার ব্যবহার শুরু হলেও ২০২১ সালে লিয়ারজেট সিরিজের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবুও স্বল্প দূরত্বের ব্যবসায়িক উড়ানে এই মডেল এখনও ব্যবহৃত হয়। 

বিশ্বজুড়ে এই মডেলের বিমানে ২০০-র বেশি দুর্ঘটনার নজির রয়েছে, যার অধিকাংশই অবতরণের সময় ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে অসামরিক বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA। আধিকারিকদের মতে, বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছড়িয়ে থাকার ধরন, আঘাতের তীব্রতা ও দিক খতিয়ে দেখে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। উদ্ধার করা হবে বিমানের ব্ল্যাক বক্সও।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় ভাষণ দেওয়ার জন্যই বারামতী যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। এই দুর্ঘটনা ফের একবার দেশের বিমান নিরাপত্তা ও ভিভিআইপি সফরের প্রোটোকল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন