সমকালীন প্রতিবেদন : উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ অঞ্চলের নারী শিক্ষার প্রসারে যাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা, সেই মহীয়সী নারী কুমুদিনী দেবীর আবক্ষ মূর্তি উন্মোচিত হলো তাঁরই স্মৃতিধন্য বনগাঁ কুমুদিনী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। মঙ্গলবার এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করা হয়। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, যে সময়ে নারী শিক্ষা সমাজের চোখে এক প্রকার ব্রাত্য ছিল, সেই প্রতিকূল সময়ে দাঁড়িয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া কন্যাদের শিক্ষিত করার গুরুভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন কুমুদিনী দেবী। তাঁরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রোপিত সেই শিক্ষার বীজ আজ এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। মায়ের ইচ্ছে পূরণের জন্য তাঁর ছেলে পরবর্তী সময়ে জমি কিনে স্কুলকে দান করেন। আর সেই জমিতেই গড়ে ওঠে আজকের কুমুদিনী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
এদিন আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কো-মেন্টর তথা প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও কুমুদিনী দেবীর নাতবৌ রত্না ব্যানার্জী। উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ পুরসভার প্রধান দিলীপ মজুমদার, উপপুরপ্রধান জ্যোৎস্না আঢ্য, প্রাথমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা মলিনা সিকদার সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। প্রদীপ্ত প্রদীপ জ্বালিয়ে ও মাল্যদানের মাধ্যমে কুমুদিনী দেবীর অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রাণী উকিল বলেন, 'নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে সেই সময় কুমুদিনী দেবীর যে ভূমিকা, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনেকদিন ধরেই আমরা ভাবনাচিন্তা করছিলাম যে, স্কুল প্রাঙ্গণে যাতে তাঁর একটি মূর্তি বসানো যায়। অবশেষে সেই ভাবনা বাস্তবায়িত হলো। আমরা খুব খুশি।' পাশাপাশি আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, 'স্কুলের এমন একটি অনুষ্ঠানে ছাত্রীদের হাতেগোনা উপস্থিতি আমাদেরকে ভাবাচ্ছে।' পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ছাত্রীদের অভিভাবকদের এব্যাপারে আরও একটু যত্নবান হওয়ার জন্য আবেদন জানান তিনি।
উদ্বোধক বিশ্বজিৎ দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'কুমুদিনী দেবী বনগাঁর মাটিতে নারী শিক্ষার যে আলো জ্বেলেছিলেন, আজ তা ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। এই মূর্তি শুধু পাথরের কাঠামো নয়, বরং এটি বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রীদের কাছে সাহস, চেতনা ও সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক। বনগাঁ এমন একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুলের উন্নয়নে আমরা সবসময় পাশে আছি।'
পুরপ্রধান দিলীপ মজুমদার বিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে জানান যে, শহর ও শহরতলীর প্রান্তিক স্তরের মেয়েদের শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে এই স্কুলের অবদান অনস্বীকার্য। এই স্কুল থেকে পাশ করে আজ অনেক ছাত্রীই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উচ্চপদে কর্মরত। মেয়েদের জন্য এই স্কুল তথাকথিত ভালোর তকমা পাওয়ায় এই স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য ছাত্রীরা সবার আগে এগিয়ে আসে।
প্রসঙ্গত, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কেবল পাঠদান নয়, বরং চরিত্র গঠন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনেও এই বিদ্যালয় পথপ্রদর্শক। দীর্ঘ এই পথচলায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উপহার দিয়েছে বহু কৃতী ব্যক্তিত্বকে। এদিনের অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বনগাঁর নীলদর্পণ প্রেক্ষাগৃহে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের মুগ্ধ করে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন