সমকালীন প্রতিবেদন : পুরীর ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ মন্দিরকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি হুমকি বার্তার জেরে দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকায়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, চলছে বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াডের তল্লাশি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হুমকি বার্তা সামনে আসার পরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুরো ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও সাইবার শাখা। মন্দির চত্বরে এবং সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে চলছে নিবিড় নজরদারি।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, মঙ্গলবার একটি ফেসবুক পোস্টে দ্বাদশ শতাব্দীর এই মন্দিরে বোমা হামলার পাশাপাশি বিজেডি-র রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস খুন্তিয়া এবং পুরীর একটি শপিং কম্প্লেক্সকেও উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সেই পোস্ট ঘিরেই প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে। যদিও আপাতত মন্দিরে পুণ্যার্থীদের প্রবেশে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি, তবে প্রত্যেক দর্শনার্থীকেই কড়া নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে।
প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ও পর্যটকের সমাগম হয় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে। সেই কারণেই কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ ওড়িশা প্রশাসন। পুরীর এসপি জানিয়েছেন, “মন্দির ও তার আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।”
এই ধরনের হুমকি নতুন নয়। এর আগেও পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে বোমা হামলার হুমকি মিলেছিল। গত বছর অগস্টে মন্দিরের দেওয়ালে ওড়িয়া ও ইংরেজি ভাষায় লেখা হুমকি বার্তা পাওয়া গিয়েছিল, যেখানে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ ছিল। সেই সময়েও নিরাপত্তা বাড়িয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। বর্তমান ঘটনায়ও সাইবার পুলিশ স্টেশনে মামলা দায়ের হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, কিছু অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি মন্দিরের নিরাপত্তা বলয় টপকে ভিতরে প্রবেশ করেছিল, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে এবং আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন