Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

বনগাঁ-বাগদা রেলপথের অনুমোদন: স্বপ্নপূরণের পথে মহকুমা, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

 ‌

Bongaon-Bagda-railline

সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁ মহকুমাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে এক বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক। বনগাঁ থেকে বাগদা পর্যন্ত বহু প্রতীক্ষিত রেলপথ নির্মাণে রেলমন্ত্রক সম্মতি দিয়েছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। এই খবর সামনে আসতেই একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে, তেমনই আসন্ন নির্বাচনের আগে এই নিয়ে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক চাপানউতোর।

দীর্ঘদিন ধরেই বনগাঁ শহর থেকে বাগদা পর্যন্ত যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হলো সড়কপথ। বাগদা ও তৎসংলগ্ন এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষ ছাড়াও নদীয়া জেলার একটি বড় অংশের মানুষ এই পথেই যাতায়াত করেন। শান্তনু ঠাকুর সামাজিক মাধ্যমে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের একটি চিঠি পোস্ট করে জানিয়েছেন যে, রেলমন্ত্রক বনগাঁ-পোড়ামহেশতলা, বনগাঁ-চাঁদা এবং চাঁদাবাজার-বাগদা রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।

সাংসদ এই প্রকল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রেলমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, 'রেলমন্ত্রী আমাকে চিঠি পাঠিয়ে এই একাধিক প্রকল্পের অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন। এলাকার মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। এখন রাজ্য সরকার যদি দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে রেলকে বুঝিয়ে দেয়, তবেই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। ‌আর রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা ব্যানার্জী এই প্রকল্পের নামে যে শিলান্যাস করেছিলেন, সেই শিলা নাশ হয়ে গেছে।'

উল্লেখ্য, বনগাঁ-বাগদা রেলপথের দাবি আজ নতুন নয়। মমতা ব্যানার্জী যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন এই প্রকল্পের শিলান্যাসও করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জমি জট ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটি থমকে যায়। শান্তনু ঠাকুর সাংসদ হওয়ার পর নতুন করে এই বিষয়টি নিয়ে দরবার শুরু করেন। রেলমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এই চিঠিতে সেই স্তিমিত হয়ে যাওয়া প্রকল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার হলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

যদিও সাংসদের এই দাবিকে স্রেফ 'ভাওতা' বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের মতে, এটি বিজেপির নির্বাচনী গিমিক ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী বছরে ২ কোটি চাকরি বা প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার মতো যে সমস্ত মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এটিও ঠিক তেমনই একটি মনগড়া গল্প। সাধারণ মানুষ বিজেপির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে, তাই পায়ের তলার মাটি ফিরে পেতে এখন নতুন নাটকের আশ্রয় নিচ্ছেন ওঁরা। নির্বাচনের ভরাডুবি নিশ্চিত বুঝেই এই প্রচার চালানো হচ্ছে।"

রেলপথের অনুমোদন মিললেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জমি অধিগ্রহণ। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা বলছে, জমি নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের টানাপোড়েনে বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প মাঝপথে আটকে গিয়েছে। বনগাঁ-বাগদা রেলপথের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করে রেলমন্ত্রককে কতটা সহযোগিতা করবে, তার ওপর অনেকটা নির্ভর করছে এই স্বপ্নের প্রকল্পের ভবিষ্যৎ।

শহরের নিত্যযাত্রীদের মতে, রাজনীতি যেদিকেই ঘুরুক না কেন, এই রেলপথ তৈরি হলে মহকুমার অর্থনৈতিক চেহারা বদলে যাবে এবং যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে আসবে। এখন দেখার, রেলের এই অনুমোদন শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় নাকি এটিও কেবল রাজনৈতিক পোস্টারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন