Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

মিমি চক্রবর্তী কেসে পুলিশের তদন্তের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বনগাঁয় গ্রেপ্তার তনয় শাস্ত্রী সহ ৩

 ‌

Obstructing-police-investigation

সমকালীন প্রতিবেদন : মিমি চক্রবর্তীর করা হেনস্তার অভিযোগের ‌তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের তদন্তের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করল বনগাঁ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। একই অভিযোগে এলাকার আরও দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জে যুবক সংঘের পরিচালনায় একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাবের কর্মকর্তা তথা জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী আচমকাই মঞ্চে উঠে পড়েন এবং গানের মাঝেই অনুষ্ঠান শেষ করার কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি অভিনেত্রীকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় নিজেকে অপমানিত বোধ করেছেন বলে দাবি করে বনগাঁ থানায় ই-মেল মারফত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মিমি।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আইসির নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার দুপুরে তনয় শাস্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছায় বনগাঁ থানার পুলিশের একটি দল। পুলিশের দাবি, তদন্তের স্বার্থে তনয় শাস্ত্রীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও তার অনুগামীরা পুলিশের কাজে বাধা দেয়। বাড়ির সামনে মহিলাদের একটি অংশ জড়ো হয়ে পুলিশকে আটকানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে ঠেলাঠেলির মধ্যে পড়তে হয়। এই অবস্থায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শেষপর্যন্ত তনয় শাস্ত্রী এবং আরও ২ যুবককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ আধিকারিকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।

অন্যদিকে, ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, তনয় শাস্ত্রীকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, মিমি চক্রবর্তীর অনুষ্ঠান রাত সাড়ে ১০টায় হওয়ার কথা থাকলেও তিনি প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছন। মঞ্চে উঠতে উঠতে সময় প্রায় পৌনে ১২টা হয়ে যায়। প্রশাসনের কাছ থেকে রাত ১২টা পর্যন্তই অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট সময়েই অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। ক্লাবের কর্মকর্তা রাহুল বসু ও শোভন দাস জানান, “মিমি চক্রবর্তীকে কোনও অসম্মান করা হয়নি। সময়সীমা মেনে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। সসম্মানেই তাঁকে বিদায় জানানো হয়েছে।”

এলাকার একাধিক মহিলা অভিযোগ তুলেছেন, অভিনেত্রীর করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁদের দাবি, অনুষ্ঠানের জন্য মিমি চক্রবর্তী সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন এবং এখন সেই টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি ওঠা উচিত। আরও অভিযোগ, তনয় শাস্ত্রী হাতজোড় করেই অনুষ্ঠান শেষ করার অনুরোধ করেছিলেন, কোনও রকম হেনস্তা করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার ভিডিও প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে।‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন