সমকালীন প্রতিবেদন : বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হল বনগাঁ থানা চত্বরে। হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার দুপুরে থানার সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। দলীয় নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বনগাঁ মহকুমা জুড়ে বৃহত্তর অবরোধ ও আন্দোলনে নামবে গেরুয়া শিবির।
বিজেপি সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যায় বনগাঁর কোড়ারবাগান এলাকায় একটি কর্মসূচি সেরে ফিরছিলেন জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর গাড়ি আটকে অতর্কিতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। বিকাশবাবুর দাবি, হামলাকারীরা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী। হামলায় বিকাশ ঘোষ ছাড়াও তাঁর গাড়িচালক এবং সঙ্গে থাকা এক বিজেপি কার্যকর্তাকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। ভাঙচুর করার চেষ্টা করা হয় তাঁর গাড়িটিকেও।
রবিবার দুপুরে এই ঘটনার প্রতিবাদে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত জেলা সভাপতি। সেই সময় থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মলয় মণ্ডল। তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "যখন হামলা চলছিল, তখন অকুস্থলের খুব কাছেই পুলিশ উপস্থিত ছিল। কিন্তু তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। দুষ্কৃতীদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেপ্তার না করলে বনগাঁর জনজীবন স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো কর্মসূচি নেওয়া হবে।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। জেলা তৃণমূল নেতা প্রসেনজিৎ ঘোষ পাল্টা বিজেপি সভাপতির বিরুদ্ধেই দায় ঠেলেছেন। তাঁর দাবি, "বিজেপি সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জেলা সভাপতি রাস্তার মাঝখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ রাস্তা আটকে থাকায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানান। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।"






কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন