Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

মৃত্যুর আগে ১২ ঘন্টার নরক-যন্ত্রনা ভোগ করতে হয়েছে দিয়েগো মারাদোনাকে

 

Diego-Maradona

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম হলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার দিয়েগো মারাদোনা। কিন্তু কয়েকবছর আগে আচমকা তাঁর মৃত্যু হয়। আর আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির মৃত্যু নিয়ে হয়েছে ব্যাপক জলঘোলা। তাই মারাদোনার মৃত্যুর আসল কারণ অনুসন্ধানে আর্জেন্টিনার আদালতে চলছে শুনানি। আর এই মামলায় এবার এল নতুন চমক। 

মারাদোনা মৃত্যু মামলায় আদালতে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ কার্লোস কাসিনেল্লি। তাঁর দাবি, মৃত্যুর আগে অন্তত ১২ ঘণ্টা মারাদোনা তীব্র যন্ত্রণায় ভুগেছেন। কিন্তু, কে এই কার্লোস কাসিনেল্লি। আসলে ফরেনসিক চিকিৎসক কার্লোস কাসিনেল্লি মারাদোনার দেহের ময়নাতদন্ত করেছিলেন। তাই কিংবদন্তি এই ফুটবলারের মৃত্যুর আসল কারণ তাঁর থেকে ভালো কেউই বুঝতে পারবেন না। 

তাঁকে এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়। আর আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কার্লোস বলেন, “মারাদোনার হৃদ্‌যন্ত্র সম্পূর্ণভাবে চর্বি ও জমাট বাঁধা রক্তে ঢাকা ছিল, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি মৃত্যুর আগে মারাত্মক কষ্টের মধ্যে ছিলেন।” উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রয়াত হন মারাদোনা। 

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ‘অ্যাকিউট পালমোনারি ওডেমা’র কারণে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র বিকল হয়ে যায়। তবে কাসিনেল্লির মতে, মারাদোনা এমন একজন রোগী ছিলেন, যাঁর চিকিৎসা ঘরে বসে করা ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, “মৃত্যুর অন্তত ১০ দিন আগে থেকেই তাঁর ফুসফুসে জল জমছিল। চিকিৎসকদের বিষয়টি আগেই বোঝা উচিত ছিল।”

তদন্তে উঠে এসেছে যে, মৃত্যুর সময় মারাদোনার মুখ এবং তলপেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গিয়েছিল। এছাড়া, মৃত্যুর আগের কয়েক দিন তিনি খুবই অসুস্থ ছিলেন। তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যথাযথ ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। মারাদোনার মৃত্যুর ঘটনায় ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিয়োপোল্দো লিউক এবং মনোচিকিৎসক অগাস্তিনা কোসাচভ সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের ৮ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। বুয়েনোস আইরেসের আদালতে শুনানি শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার। এই শুনানি চার মাস পর্যন্ত চলতে পারে এবং প্রায় ১২০ জন সাক্ষ্য দিতে পারেন। মারাদোনার পরিবার ও ভক্তরা আশাবাদী, এই মামলার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।






‌‌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন