Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

সিঙ্গুর থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদীর, ‘মহা-জঙ্গলরাজ’ আখ্যা, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার ডাক

 

Prime-Minister-in-Singur

সমকালীন প্রতিবেদন : কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতিকে সামনে রেখে সিঙ্গুরের সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের তরুণ, কৃষক, মৎস্যজীবী ও মা-বোনেদের স্বার্থে কেন্দ্র সরকার কাজ করতে চাইলেও তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে সেই উদ্যোগে ‘ব্রেক’ কষছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রবিবার সিঙ্গুরের সভা থেকে মোদী দাবি করেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তৃণমূল কার্যত সাধারণ মানুষের সঙ্গেই শত্রুতা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের তরুণ, কৃষক, মৎস্যজীবী ও মা-বোনেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে।” তৃণমূলের টানা ১৫ বছরের শাসনকে তিনি ‘মহা-জঙ্গলরাজ’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে মালদার সভার মতোই অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন। তাঁর অভিযোগ, “দেশ ও রাজ্যের সুরক্ষা নিয়ে খেলছে তৃণমূল।”

সিঙ্গুরে শিল্পায়নের প্রসঙ্গ প্রত্যক্ষভাবে না তুললেও বিনিয়োগের জন্য সঠিক আইনশৃঙ্খলা যে অপরিহার্য, সে বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে শিল্প ও বিনিয়োগ আসতে গেলে আগে কলেজে ধর্ষণ, হিংসা ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির অবসান জরুরি। সন্দেশখালির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে হাজার হাজার চাকরি যাতে না যায়, তার জন্য বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

মৎস্যজীবীদের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মৎস্যজীবীদের নাম নথিভুক্ত হলেও পশ্চিমবঙ্গে সেই প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃত বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বারবার চিঠি পাঠানো হলেও মুখ্যমন্ত্রী বা প্রশাসনের তরফে কোনও সহযোগিতা মেলেনি বলে অভিযোগ তাঁর। মোদীর দাবি, তৃণমূল রাজ্যের মৎস্যজীবীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে।

দিল্লির উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে আগের সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্প কার্যকর হতে দেয়নি বলেই মানুষ তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররাও এখন জেগে উঠেছেন এবং তৃণমূল সরকারের ‘নির্মমতা’র জবাব দিতে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে চাইছেন। সভায় বিহার ও ত্রিপুরার উদাহরণও টানেন প্রধানমন্ত্রী। বিহারে এনডিএ সরকার জঙ্গলরাজ রুখেছে বলে দাবি করেন তিনি। ত্রিপুরায় বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর পানীয় জল সরবরাহ ৪ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন মোদী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি সরকার এলে একই পরিবর্তন দেখা যাবে।

বাংলার নদীমাতৃক সভ্যতা ও সম্ভাবনার কথাও শোনান প্রধানমন্ত্রী। হুগলি নদীর দুই ধারে এক সময় শিল্পের সারি ছিল বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, উর্বর জমি, দীর্ঘ উপকূলরেখা ও প্রতিভাবান মানুষ থাকা সত্ত্বেও আজ বিনিয়োগ হচ্ছে না, কারণ আইনশৃঙ্খলার অভাব। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিনিয়োগ তখনই আসবে, যখন নিরাপত্তা ও শাসন ঠিক থাকবে।”

বিজেপি সরকার এলে ‘এক জেলা, এক পণ্য’ নীতি চালু করা হবে বলেও ঘোষণা করেন মোদী। ধনেখালি‌র শাড়ি, পাট ও হস্তশিল্পের প্রসারে কেন্দ্র সাহায্য করবে বলে জানান তিনি। প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কড়া নীতি এনে পাট শিল্প চাঙ্গা করার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে মোদী অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছে এবং ভুয়ো নথি তৈরিতেও মদত দিচ্ছে। সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য কেন্দ্র বারবার জমি চাইলেও রাজ্য সরকার সহযোগিতা করেনি বলেও দাবি তাঁর।

সভা শুরুর আগে হুগলিতে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। রেললাইন, অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, লোকাল ট্রেন এবং ইলেকট্রিক ক্যাটামেরান পরিষেবার সূচনার মধ্য দিয়ে উন্নয়ন বনাম তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতার তুলনা টানতেই সিঙ্গুরের সভা থেকে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার ডাক দিলেন নরেন্দ্র মোদী।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন