সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁর ট্যাংরা কলোনি এলাকায় বুধবার রাতে অমানবিক থেকে এক মানবিকতার দৃষ্টান্তস্বরূপ ঘটনা ঘটল। শীতের রাতে চোর সন্দেহে স্থানীয়দের হাতে মার খেতে হল এক অসহায় ব্যক্তিকে। নাম-পরিচয় বলতে না পারায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও হ্যাম রেডিওর উদ্যোগে জানা যায়—তিনি আসলে অ্যালজাইমার্স রোগে আক্রান্ত রাজস্থানের কোটা জেলার বাসিন্দা ভেরুলাল বৈরভা (বয়স ৪৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে ট্যাংরা কলোনি এলাকায় এক অপরিচিত ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। শীতের রাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করায় তাঁকে আটক করেন স্থানীয়রা। প্রথমে তাঁকে চোর ভেবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। কিন্তু নাম, ঠিকানা বা নিজের কোনও পরিচয়ই দিতে পারেননি ওই ব্যক্তি। তাতেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় মারধর।
এরপর স্থানীয় সূত্রে মারফত খবর যায় বনগাঁ থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় এনে তাঁর সঙ্গে কথা বলার পর পুলিশ বুঝতে পারে, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ এবং সম্ভবত দিকভ্রান্ত। এরপরই বনগাঁ থানার তরফে যোগাযোগ করা হয় কলকাতার ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব বা হ্যাম রেডিও সংস্থার সঙ্গে।
রেডিও ক্লাবের সদস্যরা তাঁদের যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির পরিচয় অনুসন্ধান শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা জানতে পারেন, ওই ব্যক্তির নাম ভেরুলাল বৈরভা, তিনি রাজস্থানের কোটা জেলার মদনপুরা এলাকার বাসিন্দা। ক্লাবের সদস্যরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জানা যায়, ভেরুলাল অ্যালজাইমার্স রোগে ভুগছেন। প্রায় ২৫ দিন আগে তিনি বাজার করতে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু আর ফেরেননি। বহু জায়গা ঘুরে অবশেষে তিনি এসে পৌঁছান পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয়।
এদিকে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বনগাঁ থানার পুলিশ ও হ্যাম রেডিও ক্লাবের প্রতি। তাঁরা ইতিমধ্যেই বনগাঁর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ভেরুলালকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। চোর সন্দেহে মারধর থেকে শুরু করে পরিবারের কাছে ফেরার এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল–মানবিকতা ও সচেতনতা কখনও হারানো উচিত নয়।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন