সমকালীন প্রতিবেদন : বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট দ্বন্দ্ব রবিবার একেবারেই একপেশে হয়ে উঠল। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা ও ভারতের পাল্টা অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নানা বিতর্ক চলছিল। একাধিক মহল থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলাই বাতিলের দাবি উঠেছিল। এমনকি প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং-সহ অনেকে ভারতকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে না খেলতে অনুরোধ করেছিলেন। তবে ম্যাচ মাঠে গড়ায়, আর সেখানে ভারত শাসন করল নিরঙ্কুশভাবে। পাকিস্তানের তোলা ১২৭ রানের টার্গেট টপকে যায় ভারত, সেটিও ২৫ বল বাকি থাকতেই। শেষপর্যন্ত ফলাফল দাঁড়ায় ভারতের জয় সাত উইকেটে।
টসে জিতে পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘা ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব স্পষ্ট করে দেন, টসে জিতলেও ভারত বোলিং নেবে। শুরু থেকেই ভারতের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট— প্রাথমিক চার ওভার পেস, তারপর স্পিনারদের আক্রমণ। এই ছক বুঝেও সামলাতে পারেনি পাকিস্তান। আধুনিক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তথ্য হাতে থাকা সত্ত্বেও তারা যেন পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র দেখে বিভ্রান্ত ছাত্রের মতো ভুলের পর ভুল করল।
পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে শুরুর থেকেই অনভিজ্ঞতা এবং হঠকারিতার ছাপ স্পষ্ট। সাইম আয়ুব, মহম্মদ হ্যারিস, হাসান নওয়াজ— সকলেই একের পর এক দায়িত্বজ্ঞানহীন শটে আউট হন। সাহিবজাদা ফারহান কিছুটা লড়াই করলেও তাঁর ধীর ব্যাটিং দলের রান রেটে ভাঁটা ফেলে। শেষমেশ খারাপ শট খেলেই তিনি ফিরলেন। একমাত্র শাহিন আফ্রিদিই ব্যাট হাতে কিছুটা আগ্রাসন দেখান, চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলের রান শতরান পার করাতে সাহায্য করেন। অন্যথায় পাকিস্তানের সংগ্রহ আরও কম হতে পারত।
বল হাতে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ভরসা শাহিন আফ্রিদিকে প্রথম দু’ওভার পর আর কাজে লাগানো হয়নি। এর ফলে ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য পথ আরও মসৃণ হয়ে যায়। বরং বাকি স্পিনারদের উপরই আস্থা রাখে পাকিস্তান। কিন্তু সেই কৌশল পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ভারতের তিলক বর্মা ও সূর্যকুমার যাদব সহজেই রান তুলতে থাকেন। পাকিস্তানি ফিল্ডার নওয়াজের সহজ ক্যাচ ফেলায় আরও চাপ তৈরি হয় দলের উপর।
লক্ষ্য ছোট হলেও ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা শুরুতেই ম্যাচের রাশ টেনে নেন। মাত্র ১৩ বলে ৩১ রান করে তিনি পাওয়ার প্লে-র সুবিধা কাজে লাগান। শাহিনকে প্রথম দুই বলে চার ও ছয় হাঁকিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে সরিয়ে দেন। শুভমন গিল শূন্য রানে আউট হলেও বাকি ব্যাটাররা দাপট দেখিয়ে খেলেন। শেষপর্যন্ত সূর্যকুমার যাদব অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা আগেই বলেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের শক্তির ফারাক বর্তমানে অনেকটাই বেড়েছে। রবিবার দুবাইয়ে সেই কথাই অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হল। পাকিস্তান যেখানে ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলল, সেখানে ভারত ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণে রাখল খেলা। অভিজ্ঞতার অভাব, ভুল কৌশল এবং সুযোগ নষ্ট করা— সব মিলিয়ে পাকিস্তানের ব্যর্থতা আরও প্রকট হল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন